প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গুনাহের কথা প্রকাশ করা কি বৈধ ?

সাইদুর রহমান:অন্যায় বা গুনাহর কাজ করে প্রকাশ্যে বর্ণনা করার প্রবণতা দেখা যায়। প্রথমত গুনাহর কাজ করে আল্লাহর নাফরমানি করা হয়েছে। এতে বান্দা অনুতপ্ত না হয়ে বরং গুনাহর কথা মানুষের সামনে প্রকাশ আরেক গুনাহ বা অপরাধ। এ বিষয়ে প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, “আমার সমগ্র উম্মাহ্ নিরাপদ, কেবল তারা ব্যতীত যারা কিনা তাদের পাপ নিয়ে দম্ভ করে বেড়ায়।
তাদের কেউ যখন কোন কুকর্ম করে রাতে ঘুমাতে যায় এবং আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, সকালে ঘুম থেকে উঠার পর সে বলতে থাকে, “এই শোন, আমি না কাল রাতে এই এই (কুকর্ম) করেছি”। সে যখন ঘুমাতে যাই, আল্লাহ্ তার পাপ গোপন রাখেন, আর সকালে ঘুম থেকে উঠেই আল্লাহ্ যা গোপন রেখেছিলেন তা সে লোকজনের কাছে প্রকাশ করে বেড়ায়”। (সহীহ বুখারী)

আর দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ যারা প্রবৃত্তির তাড়নায় অথবা যে কোন কারণে গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু এরপর তারা সীমাহীন অনুশোচনায় নিজের গুনাহের কথা মানুষের কাছে বলে একটু শান্তনা লাভ করতে চায়। এভাবেও সে মুলত এমন গুনাহকে প্রকাশ করে দেয় যা আল্লাহ গোপন রেখেছিলেন এবং শাস্তিকে নিজের উপর অবধারিত করে নেয়। জায়িদ ইবনে আসলাম (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, “রাসূলুল্লাহ (সা.) এর যুগে এক লোক যখন স্বীকার করল যে, সে ব্যভিচার করেছে, তখন আল্লাহ্র রাসূল (সা.) একটি চাবুক চাইলেন। যখন তাকে একটি ছেঁড়া/পুরানো চাবুক দেওয়া হল তিনি বললেন, “এটার চেয়ে ভাল নেই?” তখন একটি নতুন চাবুক আনা হলে তিনি বললেন, “এটার চাইতে একটু পুরাতন দেখে নিয়ে আসো”। এরপর এমন একটা চাবুক আনা হল যেটা ছিল (ব্যবহারের ফলে) একটু পুরানো/নরম। তখন তিনি ওটা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে একশো র্দোরা মারার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেন, “হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহ্র সীমা অতিক্রম করো না। কেউ এই ধরনের ঘৃণিত কোন অপরাধ (যেমন ব্যভিচার) করে বসলে, সে যেন তা গোপন রাখে, কারন কেউ যদি তা প্রকাশ করে বসে, তবে আমরা তার ব্যাপারে বর্ণিত শাস্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আল্লাহ্র কিতাবের বিধান কার্যকর করব”। (মুসনাদে আহমদ)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে এসেছে,“একজন লোক রাসূল (সা.) এর কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি মদিনার থেকে দূরবর্তী এক স্থানে এক মহিলার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছি। সুতরাং, আমাকে আমার প্রাপ্য শাস্তি দিন’। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তখন বললেন: ‘আল্লাহ্ তো তোমার পাপ গোপন রেখেছিল, তবে কেন তুমি তা গোপন রাখলেনা?’ (সহীহ্ মুসলিম)

উল্লেখিত হাদিসদ্বয়ে আমরা দেখলাম যে অনুশোচনাবশতও নিজের গুনাহকে প্রকাশ করতে অনুৎসাহিত করা হয়েছে। তাই কোন মানুষ যদি এমন কোন খারাপ কাজ করে বসে যা কিনা আল্লাহ্র আদেশ বা নৈতিকতা বিরুদ্ধ কিংবা অন্যের জন্য মানহানিকর, সেক্ষেত্রে তার উচিৎ তা গোপন রাখা এবং কৃতকর্মের জন্য একান্ত নিভৃতে আল্লাহ্র কাছে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করা, ভবিষ্যতে আর কখনো গুনাহ করবে না মর্মে তাওবাহ করে নেওয়া। তাহলে কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ আমাদের সহায় হবেন ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য যে, কখনো যদি অবস্থা এমন হয়ে পড়ে যে, নিজের কোন গোপন গুনাহের কারণে অপর কোন নিরপরাধ মানুষ দোষী সাব্যস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে সে ক্ষেত্রে নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়াই মুমিনের কাজ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ