প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৫ নভেম্বর ভয়াবহ সেই সিডর
কান্না থামেনি, নিখোঁজদের ফেরার অপেক্ষায় পরিবারের সদস্যরা

জুয়েল সাহা, ভোলা : ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০০৭ । সকাল থেকে বাতাস ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। বিকাল থেকে ঝড়েরর প্রবনতা বাড়তে থাকে। রাতে শুরু হয় ঘূর্ণিঝড় সিডরের মহা তাণ্ডব। প্রবল বাতাস ও জলচ্ছাসে লন্ড-ভন্ড হয়ে যায় ভোলায়। এ ঘূর্ণিঝড় সিডরের তান্ডবে ভোলায় ৪৭ জনের প্রাণ হানি ঘটে। নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অর্ধ শতাধিকেরও বেশি জেলে। এছাড়াও ঝড়ের তান্ডবে বিধ্বস্ত হয় ৫২ হাজার ঘর এবং কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয় ফসলের। নিস্ব হয় কয়েক হাজার পরিবার।

ভোলা সদরের ভেলুমিয়া এলাকার রিপন মন্ডল জানান, ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে এ ইউনিয়নের অনেক ঘর বাড়ি, ফসলি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে । সিডরের তান্ডবে কারণে অনেক পরিবার খোলা আকাশে নিচে আশ্রয় বসবাস করেছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কেউ কেউ আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সময় প্রাণ হাড়ায় আবার কেউ ঝড়ের জলচ্ছাসে প্রাণ হারায় । এছাড়াও অনেক জেলে ঝড়ের আগে নদীতে মাছ শিকার করতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পরে প্রাণ হাড়ায় পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসের ব্যক্তিটিকে কেউ বা নিখোঁজ হয়। এদিকে, নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে এখনো চলছে কান্নায়। এখনো তারা প্রিয় স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কূলগাজী গ্রামের শাহে আলম জানান, যখন ঝড়ের প্রবনতা বাড়তে থাকে তখন আমার বড় থেকে আমার মাকে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্র যাওয়ার সময় নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় নৌকা ডুবে মা মারা যায়।

একই এলাকার মোস্তফা মাঝি জানান, সিডরের জলচ্ছাসে আমার এবছরের শিশু কন্যাকে তার মা’র কোল থেকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আজও তার লাশও খুঁজে পাইনি।

একই ইউনিয়নের চরগাজী গ্রামের মৃত শহিদ মাঝির স্ত্রী জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডের দিন দুপুরে আমার স্বামী নদীতে মাছ শিকারের জন্য যায়। আমি তাকে যেতে না বললে সে বলে তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো। রাতে খবর পেলাম ঝড়ের কবলে পরে তার ট্রলার ডুবে গেলে। তাকে আমরা পরিবারের সবাই খোঁজাখুজি করি। তিনদিন পর নদীর পাওে একটি ধান ক্ষেতে তার লাশ খুঁজে পাই।

মোস্তফা মিয়া জানান, আমার ভাইসহ দশজন মাঝি নদীতে মাছ শিকারের জন্য বের হয়। শুনেছি তাদের ট্রলার ঝড়ের কবলে পরে ডুবে গেলে। আমার ভাইসহ দশ জেলের আজও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। এখনো আমরা তার ফিওে আসার অপেক্ষা করছি।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ভোলার উপকূলে গড়ে উঠেনি প্রয়োজন মতো আশ্রয় কেন্দ্র বা সাইক্লোন সেল্টার।

ভোলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) অফিসের তথ্য মতে, ঝড় থেকে রক্ষায় ও মানুষের নিরাপদে আশ্রয়ের জন্য ভোলা জেলার সাড়ে ৮ শ আশ্রয় কেন্দ্র বা সাইক্লোন সেল্টার প্রয়োজন থাকলেও রয়েছে ৬ শ’ টি।

তবে ভোলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) উপ-পরিচালক মোঃ শাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, বর্তমাণে আমরা সিপিপি যেকোন ঝড় মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছি। মাঠ পর্যায়ে সিপিপি সদস্যরা ঝড়ের আগে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ভোলায় জেলায় আরো নতুন আশ্রয় কেন্দ্র ও মুজিব কেল্লা নির্মাণের জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির এ কর্মকর্তা ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ