প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একাদশ নির্বাচন নিয়ে চীনের প্রত্যাশা, ভারতের উদ্বেগ

মাছুম বিল্লাহ : একাদশ নির্বাচন নির্বেঘ্নে  অনুষ্ঠিত হোক সেটাই চায় অন্যতম বন্ধুদেশ চীন। দেশটি আশা করে একাদশ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি নতুন সরকার মসৃণভাবে পালাবদল করবে। আগামী দিনে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। ইতিমধ্যে চীন বাংলাদেশে প্রচুর বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। তাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে।

চীনের এই প্রত্যাশাকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে নিকট প্রতিবেশি বন্ধুদেশ ভারত। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির কারণে প্রতিদ্বন্দ্বি চীন ও ভারত। এ কারণে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখছে ভারত।

ইতোপূর্বে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে চীন কোন আগ্রহ না দেখালেও সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। চীনের ঢাকাস্থ দূতাবাস নির্বাচন নিয়ে চলতি বছরে একাধিক মন্তব্য করেছেন।

সম্প্রতি ঢাকাস্থ চীনের দূতাবাসে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেছে চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কাউন্সিলার লি গুয়ংজুন। ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ পাবার একদিন পর চীন তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।

সম্প্রতি ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামে একটি ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ডিস্টিংগুইশড ফেলো মনোজ যোশী বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, এই নির্বাচন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুঁড়ে দিতে পারে।

মনোজ যোশি লিখেছেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়, তাতে মাত্র ২২ শতাংশ ভোট পড়েছিল। সেই নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে এবং সেসময় অনেক সহিংসতা হয়। কাজেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আশা বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন যেন আগের বারের চাইতে বিশ্বাসযোগ্য হয়। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কারও ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাকে ভারত কিছুটা উদ্বেগের চোখে দেখে।

মনোজ যোশী মনে করেন, ভারত যদিও বাংলাদেশের বহুবছরের মিত্র, এখন চীন সেখানে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০০৭ সালের পর থেকে চীন বাংলাদেশে প্রায় তিনশো কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। তারা বাংলাদেশে সেতু, সড়ক থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, অনেক কিছুই নির্মাণ করছে। তারা এখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র যোগানদাতা। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বাংলাদেশ সফরে গিয়ে আরও দুই হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন। এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে চীন হয়ে উঠবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগকারী দেশ।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু এ প্রতিবেদককে বলেছেন, আমাদের নির্বাচন নিয়ে আগে ভারত,চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র এতোটা মাথা ঘামাতো না। কিন্তু এখন তারা মাথা ঘামাচ্ছে। ৯৬-এর নির্বাচনেও ভারত মাথা ঘামায়নি। কিন্তু এখন তারা নির্বাচনের বিষয় নিয়ে খুবই আগ্রহী। এবার দেখটি চীনও বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য শুরু করেছে। সম্প্রতি চীনের ঢাকার দূতাবাস নির্বাচন নিয়ে তিন বার বক্তব্য দিয়েছে। এতে বোঝা যায় ভূ-রাজনীতির কারণে তাদের কাছে বাংলাদেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে বিদেশি বন্ধুদের আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে মন্তব্য করার ফলে সুস্থ নির্বাচনের পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে। বিদেশিদের নাক গলানো তৎপরতার ব্যাপারে আমাদের রাজনীতিবিদের ও জনগণের উচিত আর বেশী সতর্ক থাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত