Skip to main content

এ কেমন ইতিহাস বাফুফের?

স্পাের্টস ডেস্ক : মিয়ানমারে অলিম্পিক বাছাইয়ে নেপালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। মেয়েদের ফুটবলে জাতীয় দল পর্যায়ে এই প্রথম নাকি নেপালের বিপক্ষে না হেরে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। বাফুফে বলছে, এটা নতুন ইতিহাস ‘বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী জাতীয় দল স্তরে ইতিহাস তৈরি করেছে’— বাফুফের ওয়েবসাইটের শিরোনাম দেখে দ্রুত মাউস বাড়িয়ে ক্লিক করতে হলো। বহুদিন ধরেই নারী ফুটবল বাফুফের ‘পোস্টার চাইল্ড’। সংস্থাটির সকল সাফল্যের গল্প, প্রচারণা নারী ফুটবল ঘিরে। বয়স ভিত্তিক পর্যায়ে সাফ পর্যায়ের নানা সাফল্যে টইটুম্বুর অবস্থা। কিন্তু মেয়েদের জাতীয় দল আবার কোন নতুন ইতিহাস গড়ল? বাংলাদেশ জাতীয় দল ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের বাছাইপর্ব খেলেছে মিয়ানমারে। প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে কাল নেপালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। সে ফলকেই ‘ঐতিহাসিক’ বলে দাবি করছে বাফুফে। করুণ সত্য হলো, এই প্রথম মেয়েদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে নেপালের বিপক্ষে না হেরে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। নতুন কোনো ফল এনে দেওয়াকেই তো ইতিহাস বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এ কারণেই বাফুফে যখন দাবি করে কয়েক সপ্তাহ আগে দুশানবেতে হয়ে যাওয়া এএফসি অনূর্ধ্ব ১৯ প্রতিযোগিতায় তাজিকিস্তানকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার মতোই আরেকটি মাইলফলক এই ড্র, তখন সেটা মেনে নিতেই হয়। নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ দৃঢ়চেতা মনোভাব দেখিয়েছে। মিয়ানমার ও ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ১২ গোল খাওয়ার পর কালও হারতে পারত দল। ১৭ মিনিটে পিছিয়ে পড়া ম্যাচে ৯২ মিনিটে সেট পিস থেকে সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। আঁখি খাতুনের সে গোলেই ইতিহাস রচনা করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের অনুসারী হলে এতক্ষণে নামটা দেখে চিনে ফেলার কথা। অনূর্ধ্ব-১৫ ও ১৬ দলের হয়ে কয়েক দিন পর পরই শিরোনাম হয় আঁখি। কখনো ডিফেন্ডার হয়েও গোল করে, কখনো বা নিজের কাজটাই এত দুর্দান্তভাবে করে যে প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অন্য কাউকে বেছে নেওয়া যায় না। কিন্তু বয়স ভিত্তিক দলের একজন খেলোয়াড় কেন জাতীয় দলে? সমস্যাটাও এখানেই, জাতীয় দলের নামে প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেও খেলোয়াড়দের অধিকাংশই বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের অংশ। প্রতিটি ম্যাচের আগে কিংবা পরেই কোচ গোলাম রব্বানী তাঁর তরুণ দলের প্রশংসা করেছেন। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাঁর তরুণ দল যে শেষ বিন্দু দিয়ে লড়েছে সে কথাই বলেছেন। এ অভিজ্ঞতা যে দলের সবার খুব কাজে লাগবে, সেটাও বলেছেন। এতে ভুল কিছু নেই। অনেক প্রতিযোগিতাতেই অপেক্ষাকৃত তরুণ দল নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে যান ফুটবল কোচেরা। কিন্তু কোচ রব্বানীর ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে, তাঁর ফুটবলাররা ‘অপেক্ষাকৃত তরুণ’ নন। তাঁরা এতটাই তরুণ যে তাঁরা এখনো অধিকাংশই বয়স ভিত্তিক দলগুলোর চূড়ান্ত পর্যায়ের সদস্যও নন! এটিও নতুন কিছু নয়। বহুদিন ধরেই বাংলাদেশ জাতীয় দল বলতেই ফরোয়ার্ড সাবিনা ও বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের সদস্যরা। এর আগেও জাতীয় দলের মোড়কে এভাবেই দল গঠন করা হয়েছে। এবং এভাবেই অনূর্ধ্ব-১৫ কিংবা ১৬ দলের খেলোয়াড়েরা অনূর্ধ্ব ১৯ দল ও জাতীয় দলের দায়িত্ব বহন করে চলেছে। এরাই ২০১৬ সালে এসএ গেমসে ভারতের বিপক্ষে দারুণ লড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। আবার সে দলই এবার ভারতের বিপক্ষে ৭ গোল খেয়েছে। এ সময়টায় দলটি একের পর এক টুর্নামেন্ট খেলেছে, নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তারপরও ভারতের বিপক্ষে ফলাফলটা উল্টো খারাপ হয়েছে। এর ব্যাখ্যা দুভাবে হতে পারে, গত এক বছরে বয়সভিত্তিক পর্যায়ে যাই হোক জাতীয় পর্যায়ে ভারত অনেক এগিয়েছে। আর আদতে কোনো জাতীয় দল না থাকায় পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। অথবা, টানা এতগুলো দলের ভার বয়ে ক্লান্ত কিশোরীরা এখন ক্লান্ত। বয়স ভিত্তিক নারী ফুটবলে বাংলাদেশ সাফল্য পাচ্ছে। কিন্তু বাফুফে সে সাফল্যে যেন ভুলে না যায়, জাতীয় দলের ফুটবল দিয়েই সাফল্য-ব্যর্থতার হিসাব করা হয়, অনূর্ধ্ব-১৫ বা ১৬ দলের সাফল্য দিয়ে নয়। ছেলেদের যুব ফুটবলে বিশ্বকাপ জেতার সাফল্য নিয়েও ঘানার মূল জাতীয় দল এখনো পরাশক্তি হয়ে উঠতে পারেনি। কিংবা গত দুই যুগে পাঁচটি যুব বিশ্বকাপ জেতার সাফল্যও আর্জেন্টিনার ফুটবলের সাফল্য খরা ঢাকতে পারেনি। জাতীয় দলকে গুরুত্ব না দিলে, এভাবে নেপালের বিপক্ষে ড্র করেই আবার ইতিহাসের গল্প লিখতে হবে বাফুফেকে। বয়স ভিত্তিক দলের সাফল্য দিয়ে যে জাতীয় দলের ইতিহাস রচনা করা যায় না! - প্রথমআলাে অনলাইন