প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংযত হোন, আগুন নিয়ে খেলবেন না

বিভুরঞ্জন সরকার : বুধবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনের এলাকা কিছু সময়ের জন্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। পুলিশ এবং বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে। ক্ষিপ্ত বিএনপি কর্মীরা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে।

ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, মৃত্যু, অগ্নি সংযোগের ঘটনা এবার দেখা যাচ্ছে। মানুষের মনে উদ্বেগ-আতঙ্ক বাড়ছে। নির্বাচনী প্রচারণাকালে এবং নির্বাচনের দিন কিংবা আগে-পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে কিনা সে প্রশ্ন সামনে আসছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহের দিন দুজন নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে। বিএনপি অফিসের সামনে দুটি গাড়ি পুড়লো। এসব কী ভালো আলামত?
বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস কয়েকশ কর্মী নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে এলে গোল বাধে। রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। ব্যাস, শুরু হয় লঙ্কাকা-।

ঘটনার পেছনে উভয়পক্ষের বাড়াবাড়ি ছিলো। অবশ্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশের চেয়ে মির্জা আব্বাসের সমর্থকেরাই বেশি মারমুখি ছিলেন। তারাই ত্রুমাগত উসকানি দিয়ে পুলিশকে ধৈর্য্যহীন করেছেন। মির্জা আব্বাস বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা। তার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য ‘শোডাউন’ করতে হবে কেনো? তার তো দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তাহলে তিনি কাকে শক্তি দেখানোর জন্য বিপুল লোক সমাগম করতে গেলেন? রাস্তাঘাট বন্ধ হলে পুলিশ যে বিএনপির ওপর হামলা করার অজুহাত পেয়ে যাবে, সেটা তো মির্জা আব্বাসের মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের না বোঝার কথা নয়। তিনি জেনে-বুঝে এই উস্কানি দিতে গেলেন কেন?

আবার পুলিশের দিক থেকেও শৃঙ্খলা রক্ষার নামে কিছুটা বাড়াবাড়ি করা হয়েছে। তারা আরেকটু সহনশীল হতে পারতো। বিএনপির মতো একটি বড় দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার জন্য অতিরিক্ত ভিড় হবে, এটা কি না জানার মতো কিছু? আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় চারদিন ধানমন্ডি এলাকায় যান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা কী পুলিশ মেনে নেয়নি? ধানমন্ডিতে যেটা চলতে পারে, নয়াপল্টনে সেটা কেন নয়? পুলিশকে অকারণ শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের, তাদের শান্ত থাকতে হবে বেশি।

আমরা আশা করবো, কোনো পক্ষই মাথা গরম করবেন না। আগুন নিয়ে কেউ খেলতে যাবেন না। মনে রাখতে হবে, আগুন জ্বালালে ‘নেভানো ভীষণ দায়’।

ঘোলা পানিতে কেউ যাতে মাছ শিকারের মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে না পারে সে দিকে নজর রাখতে হবে সবাইকে। কেউ উস্কানি দেবেন না। কেউ অকারণ শক্তি প্রয়োগের পথে যাবেন না।

নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণের এখনও অনেক কিছু বাকি, সব হিসাব-নিকাশ শেষ হয়নি, মিলে যায়নি।
প্রার্থী বাছাই চূড়ান্ত হোক, মিত্রদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি শেষ হোক, দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি হোক – তারপর বোঝা যাবে পানি গড়ানো কী শেষ, না আরো বাকি আছে।

এখনই কেউ নিজেদের বিজয়ী বা পরাজিত ভেবে সে অনুযায়ী আচরণ শুরু করবেন না। পথেঘাটে মানুষের উটকো মন্তব্য শুনে কিংবা ফেসবুকে দায়িত্বহীন ব্যক্তিদের চটুল বা তীর্যক মতামতকে ‘জনমতের প্রতিফলন’ ধরে ‘হাম কি হনু রে’ ভাব করলে ভুল হবে।

প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত হবে এখন হুংকার-হুমকি পরিহার করে সংযত আচরণ করা এবং নিজ নিজ বক্তব্য নিয়ে সরাসরি ভোটারদের কাছে যাওয়া। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করার চেয়ে বড় রাজনৈতিক কর্তব্য এখন আর কিছু নেই। ভোট বানচাল হতে পারে এমন কিছু করা ঠিক হবে না কারো।

নির্বাচন কমিশনকেও শক্তভাবে পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাদের সক্ষমতার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। তাদের মাথা ঠা-া রাখতে হবে। কারো প্ররোচনার ফাঁদে পা দেওয়া চলবে না। পক্ষপাত যদি যুক্তি ও ন্যায়ের পথ অনুসরণ করে তাহলে দোষের হতে পারে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ