প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১১ বছর
আজও উপকূলবাসীর মাঝে ফিরে আসেনি সচেতনতা

মোঃ জয়নুল আবেদীন, আমতলী (বরগুনা) : ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে ঘন্টায় ২১৫ কিলোমিটার গতির প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল দক্ষিণের জনপদ। আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ২৯৭ জন মানুষের প্রাণহানী হয়েছিল। নিখোঁজ রয়েছে ৪৯ জন জেলে। অগনিত গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছিল। বাড়িঘর, ফসলী জমি, রাস্তাঘাট, ভেরীবাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুন্দরবনের গাছপালা ব্যাপক ক্ষতি হয়।

সিডরের ১১ বছর পূর্ণ হবে কাল। কিন্তু আজও উপকূলবাসীর মাঝে ফিরে আসেনি সচেতনতা। ওই সময় অসচেতনতা কারনে সবচেয়ে প্রাণহানী ঘটে বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী নিদ্রা, সখিনা, আশারচর, জয়ালভাঙ্গা ও ফকির হাট এলাকায়। যারা সাইক্লোন সেল্টারে আশ্রয় নিয়েছিল তাদের প্রাণহানী ঘটেনি। বেশী প্রাণহানী ঘটেছে সাগরে অবস্থানরত জেলেরা। জেলেদের অসচেতনতার জন্য এত প্রাণহানী। গত ১১ বছরে আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে তা অপ্রতুল। বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের কাজ এখনো অসমাপ্ত।

সিডরের পরে সরকার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। আমতলী ও তালতলীতে সরকারী ও বেসরকারীভাবে ৩৫ টি সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হয়েছে। যা অপ্রতুল। বড় ধরনের দুর্যোগ দেখা দিলে মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পরবে। এদিকে ৪৫ পোল্ডারে ৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ সিডরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমবিইএল। তারা এখনো বাঁধের ওই ৩ কিলোমিটার কাজ সংস্কার করতে পারেনি। ফলে হুমকির মধ্যে রয়েছে বাঁধ ভাঙ্গল করলিত এলাকার মানুষ। উপকুলের লক্ষাধিক মানুষ সাগর সংলগ্ন নিদ্রা, সখিনা, আশারচর, জয়ালভাঙ্গা ও ফকির হাট জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে। এখানে এখনো কোন সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ করা হয়নি।

সোনাকাটা ইউপি সদস্য আবদুস ছালাম হাওলাদার বলেন, সাগরে জেলেরা যুদ্ধ সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। সিডরের এতবড় আঘাতেও তাদের মাঝে সচেতন ফিরে আসেনি।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান মৌসুমে যে পরিমাণ জেলে আশারচর এলাকায় অবস্থান করছে এখানে কোন আশ্রয়কেন্দ্র নেই। জেলেদের নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা প্রয়োজন।

তালতলী তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের শাহ জালাল প্যাদা ও জসিম মিয়া জানান, সিডরে বিধ্বস্থ তেতুলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙ্গার ৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখনো নির্মাণ করা হয়নি। সামান্য বন্যা ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। গত ১১ বছর ধরে হুমকির মুখে এ এলাকার মানুষ বসবাস করছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, তেতুলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এ বছর নির্মাণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ