প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এলএনজি পাইপলাইন মেরামতে কাজ করছে সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা

শাহীন চৌধুরী: সাগরের নীচে এলএনজি পাইপলাইন মেরামতের কাজ করছে সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের এই দলটি জানিয়েছে আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে তারা কাজ শেষ হরতে পারবে। সেক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের সমাধান হতে আর এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি (আরপিজিএিল) দাবি করেছে।

এদিকে গ্যাসের এই সমস্যা দেখা দেয়ায় ঢাকা এবং আশেপাশের এলাকায় সংকট যাতে মারাত্মক আকার ধারন না করে সেজন্য তিতাস গ্যাস ট্রন্সমিশন এন্ড ডিট্রিবিউশন কোম্পানি তাদের ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে তিতাস দেশের মোট ১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সরবরাহ করে থাকে।

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও সমুদ্র তলদেশের পাইপলাইনের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলের অকার্যকর হাইড্রোলিক ভাল্বটি মেরামতের চেষ্টা চলছে। এই সমস্যার কারনে পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাশাপাশি ঢাকা ও এর আশেপাশে বাসা বাড়িতে গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর উত্তরা, আজিমপুর, পান্থপথ, রামপুরা, বনশ্রী, মিরপুরসহ পুরনো ঢাকায় দিনের বেলা গ্যাসের চাপ এত কম যে, রান্নাই করা যাচ্ছে না। মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার আবাসিক ও শিল্পে গ্যাস সংকট থাকবে। এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে ভোগান্তি কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে আরপিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এলএনজি সরবরাহ ১৭ নভেম্বরের দিকে ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, অকার্যকর হয়ে যাওয়া হাইড্রোলিক ভাল্বটি ৪০ মিটার পানির নিচে পাইপলাইনের মধ্যে রয়েছে। অভিজ্ঞ লোক ছাড়া মেরামত সম্ভব নয়। এজন্যই সিঙ্গাপুর থেকে লোক আনা হয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জি তাদের বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে গত নিবার। এই কাজের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিটের ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য যারা এখন মহেশখালীতে কাজ করছেন, তাদের সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মহেশখালীতে বিশেষায়িত জাহাজও রয়েছে। আশা করছি তারাতারিই সংকট কেটে যাবে।

সূত্রমতে, পাইপলাইনের ভেতরে খোলা-বন্ধের যে জায়গাটি, সেখানে হাইড্রোলিক ফ্লুয়িড থাকে। ফ্লুয়িড বের হয়ে গেছে। এ কারণেই ভাল্বটি কাজ করছে না। এমনিতে পাইপলাইনে কোনও সমস্যা নেই। কাজও খুব বেশি নয়। মাটির ওপরে থাকলে আধা ঘণ্টায়ই তা শেষ করা সম্ভবপর ছিল। কিন্তু সাগরের নিচে হওয়ায় সময় একটু বেশি লাগবে। এছাড়া আবহাওয়ার বিষয়টিও মাথায় রেখেও কাজ করতে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট থেকে পাইপলাইনে এলএনজির বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হয়। এর আড়াই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো গত শনিবার পাইপলাইনের নতুন করে এই ত্রুটি দেখা দেয়। আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রীডের গ্যাস সেখানে দিতে হচ্ছে। ফলে জাতীয় গ্রীডে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ