প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘কোথায় শুভ্র মানবিকতার ভোর?’

দিদার হাসান : নির্জনতার কবি জীবনানন্দ দাশ তার ‘সময়ের কাছে’ কবিতার এক জায়গায় প্রশ্ন রেখেছেনÑ … ‘মানুষেরা বার বার পৃথিবীর আয়ুতে জন্মেছে; নব-নব ইতিহাসÑ সৈকতে ভিড়েছে; তবুও কোথাও সেই অনির্বচনীয় স্বপনের সফলতাÑ নবীনতাÑ শুভ্র মানবিকতার ভোর?

হ্যাঁ, এতো বছর পরেও তার এই প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা সঙ্গত; সত্যিই তো! কোথায় সে শুভ্র মানবিকতার ভোর? এই ভোরের আলোর দেখা কী সুদূর পরাহতই থাকবে? পৃথিবীতে আজও কেন রক্তপাত হিংসা, হানাহানি? কেন স্বার্থের দ্বন্দ্বে মানুষ এমন নিষ্ঠুর? কেনই-বা জাত-পাত-ধর্ম-শ্রেণি-বর্ণ দ্বন্দ্বে মানুষ এতো বিভক্ত? এক সংঘাত-সংঘর্ষ-খুন কী কোনো সুস্থতার লক্ষণ? শান্তির কবি, মানবতার কবি, প্রেম ও প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ প্রত্যাশিত মানবিকতার দেখা মিলবে কবে? মানুষের মধ্যে মানবিক প্রেম জাগবে কবে? কবে মানুষ শান্তি-সোহার্দ্য-সাম্যে আস্থাবান হবে? আমাদের কাক্সিক্ষত সমাজ পরিবর্তনের আশা কী দূরাশাই থাকবে? বঞ্চনা এবং শোষণের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তা বদলে ফেলতে না পারলে শান্তি-সুখ তো অধরাই থেকে যাবে। মানুষ আর কতো নির্মম হবে? মানবিক সংস্কৃতির এ প্রথম পাঠটি আমরা কবে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারবো? আর পারবো সুন্দর আর কল্যাণের আলোয় জীবন ভরাতে?

চারপাশের প্রতিদিনের এতোসব অস্থিরতা লোভ, স্বার্থপরতা দেখে দেখে মনটা যখন বিগড়ে যায় বিষাদে ভরে ওঠে হৃদয় তখন রবীন্দ্রনাথে দ্রুত আশ্রয় নেই। নির্ভয়ে এবং নিঃসংকোচে তার মাঝে আশ্রয় ও স্বস্তি পাই বলে সব ক্ষেদ-দুঃখ-অবসাদ ঘুচে যায়। রবীন্দ্রনাথ তার অপূর্ব বাণীর বর্ষা দিয়ে আমার অশান্ত দেহ-মন ধুয়ে দেন। এক অপার শান্তি, শান্ত নীরবতা আমাকে তখন ঘিরে ধরে। আমার ক্লান্তি মুছে যায় এক এক করে আমি যখন শুনতে থাকিÑ ‘কোন আলোতে প্রাণের প্রদীপ জ্বালিয়ে তুমি ধরায় আসো’ অথবা ‘শুধু তোমার বাণী নয় গো, হে বন্ধু, হে প্রিয়’, ‘জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে’, ‘দূরে কোথাও দূরে’, ‘বিশ্ব যেথা যোগে যেথায় বিহারো’…।

এভাবে তার বাণীর সুধা পান করি আর নিজেকে পূর্ণ করি, রবীন্দ্রনাথ তার জ্ঞান দিয়ে আমাদের ভরিয়ে রাখছেন বলে এতো অমানবিকতার মধ্যেও আমরা বাঁচতে চাই। এই নিরন্তর সংঘাত-সংঘর্ষের বিষনিঃশ্বাসে নইলে কবে যে শেষ হয়ে যেতো আমার বাঁচার আশা! রবীন্দ্রনাথ এ কারণেই অনিবার্য, প্রার্থনীয়।

লেখক : সাংবাদিক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ