প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন নিয়ে নাগরিক ভাবনা

ড. মোঃ হাবিবুল্লাহ্ : বাংলাদেশের নির্বাচন মানে উৎসব, প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের মধ্যে টান টান উত্তেজনা। সেই চিরায়ত উৎসব এবং প্রতিযোগিতামূলক উত্তেজনার পরিবর্তে সাম্প্রতিক অতীতে যে উৎকন্ঠা এবং উদ্বেগের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে তা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য যে মোটেও কল্যাণকর নয় তা নিকট অতীতের নানা ঘটনায় প্রতীয়মান হয়েছে। সেই হিসেবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে উৎসব এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের জন্য দায়িত্ব। অর্থাৎ নির্বাচনটা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এবং প্রত্যেক ভোটাররা যাতে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তফসিল ঘোষণার পর ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি ক্ষমতাসীন জোট যেমন ধন্যবাদ জানিয়েছে, তেমনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সমালোচনা করেছে। তার মানে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কিছুটা হলেও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে বিশেজ্ঞরা মনে করেন। এটি এড়ানো গেলে হয়তো সংলাপের জন্য আরও খানিকটা সময় পাওয়া যেত এবং তাতে প্রতিপক্ষ জোটসমূহ আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারতো। প্রত্যেক নির্বাচনের মতো এ নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভিন্ন কারণে এ নির্বাচনের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করা হয়।

সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে অস্বস্তি এবং ইমেজ সংকট কাটিয়ে উঠতে চায় সরকার। উভয়ের এই কৌশলে কে কতটুকু ছাড় দিয়ে তার নিজের আখের গোছাবে তা সামনের দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দল একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসবে না বলে ইতিমধ্যে গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে এ ধরনের প্রভাবশালী পর্যবেক্ষকদের আনার ব্যবস্থা করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের এ ব্যাপারে আরও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। যেহেতু বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসবে, সেহেতু নির্বাচনের পরিবেশ যাতে ভালো থাকে এবং সকল জোট এবং দল যাতে সমানতালে বাধাহীনভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে তার নিশ্চয়তা নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। অর্থাৎ বল এখন নির্বাচন কমিশনের কোর্টে। পাশাপাশি সব সময়ের মতো নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মানুষ দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। নির্বাচনের সময় জাতীয় রাজনীতিতে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হয় তার দিকে সবার নজর থাকে। এর বাইরেও বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে যেগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। এবারের নির্বাচনের সময় যেহেতু সংসদ বহাল থাকবে সেহেতু ক্ষমতাসীন সংসদ সদস্যরা প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। আর এক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের দোহাই না দিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্যাসমূহের কার্যকর সমাধান করা প্রয়োজন। নাগরিক সমাজ নির্বাচন কমিশনের নিকট থেকে সেই ধরনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করে।

লেখক : বিভাগীয় প্রধান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ