প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশ নিয়ে কেন এতো ভয়?

মোহাম্মদ আবু নোমান : আজকাল হাসির জন্য আর কৌতুক শোনা ও পড়া লাগে না। রাজনৈতিক নেতাদের নিজের ক্ষমতা প্রকাশ, কথাবার্তা ও ডিগবাজির কাহিনী দেখলেই হাসতে হাসতে উল্টে যেতে হবে। ক্ষমতার স্বাদ ও লোভ মানুষকে বিবেকহীন করে দেয়। ‘বনে যে যায় সেই হয় বাঘ’ নীতি চর্চায় অভ্যস্ত বহুমুখী রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ। সাম্রাজ্যমোহ আর ক্ষমতার লোভে মানবিকতা, স্বদেশ প্রেম, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষতা আমাদের অস্তিত্ব থেকে হারিয়ে গেছে। ক্ষমতা বাগাতে ভলো পানি না জুটলেও ঘোলা পানি হলেও খেতে রাজি! এই আমাদের কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদের তথাকথিত আদর্শ!

সাপুড়ে সর্পকেও বিশ্বাস করে থাকে। কিন্তু নেতাদের প্রতি জনগণের সকালের বিশ্বাস, দুপুরে আগেই নিঃশেষ হয়ে যায়! নভেম্বর মাস আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া বড় এক ইতিহাসের মাস। প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয়Ñ ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর যারা ‘সিপাহী বিপ্লব’ করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে কর্নেল তাহের হত্যাকারী বলে জিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন তৈরি করতে চেয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখন আওয়ামী লীগের কিংবা বিএনপির সঙ্গে নিজেদের পুঁটুলি নিয়ে ছুটছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেনÑ আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, আবদুল মালেক রতন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে বিএনপি শিবিরে, যদিও প্রথমজন শেখ হাসিনার পূর্বের মন্ত্রিসভায় পাঁচ বছর মন্ত্রিত্ব করেছেন, দ্বিতীয়জন আট বছর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নগর নেতা আবদুস সালামও এক সময়ে জাসদে সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া হাসানুল হক ইনু, শরীফ নূরুল আম্বিয়া, আনোয়ার হোসেন ১৪ দলের নামে আওয়ামী লীগ শিবিরে আছেন। প্রথমজন বর্তমান মন্ত্রিসভায় তথ্যমন্ত্রী। মন্ত্রিসভার অপর সদস্য শাজাহান খান মাদারীপুর গণবাহিনীর নেতা ছিলেন। বর্তমানে তারা অতীতের বিপ্লব ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের তন্ত্র-মন্ত্র পেছনে ফেলে ক্ষমতার হিস্যা নিতেই এ দলে ও দলে ভাগ হয়ে আছেন। কী আশ্চর্য আমাদের ইতিহাস!

এমন বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের ভয়! নির্বাচন নিয়ে এতো শোরগোল, ডিগবাজি ও পল্টিবাজির রাজনীতি বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও আছে কী? নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দেশসেবা করতে সবাই এতো অস্থির, উদগ্রীব, ধৈর্যহীন, বিশ্রামহীন কেন? দেশ সেবার সেøাগানের নামে এ দলে সে দলে দৌড়াদৌরি পেছনে মূল কারণ রাজনৈতিক নয় বরং একেবারে ব্যক্তিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট, এতে কোনো সন্দেহ আছে কী?

ইতোপূর্বে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বেরিয়ে ক্ষমতাসীনদের সাথে সন্তুষ্টির সুর মিলিয়েছিলেন। কিন্তু এখানেও পান থেকে চুন না খসতেই জল কর্দমাক্ত হয়ে গেছে। বদরুদ্দোজা চৌধুরী সাতক্ষীরার জনসভায় যেতে হেলিকপ্টারে উড়তে পারেননি। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বি. চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সরকারের এই গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠনের প্রতিশ্রুতির পরিষ্কার বরখেলাপ।’

সংবিধান, আদালত আর নির্বাচন। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে কিছুতেই হাসি-তামাসার স্থান বানানো যাবে না। অতীতেও লেখক : কলামিস্ট

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ