Skip to main content

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় বেগম জিয়ার নির্বাচন করার পথে বাধা হবে না

ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৭ বছরের কারাদ-ের রায় হয়েছে। কিন্তুএই রায় কি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোন বাধা হয়ে দাঁড়াবে? বাংলাদেশের বর্তমান আইন কী বলে? বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোন ফৌজদারি অপরাধে কেউ দুই বছর বা তার বেশি সাজাপ্রাপ্ত হলে নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়াকে অযোগ্য ঘোষণা করতে এই মামলার রায় কি সেভাবে বিবেচনা করা যাবে? এসব প্রশ্নের জবাব পেতে বরং তাকানো যেতে পারে আলোচ্য মামলা এবং সংশ্লিষ্ট আরও কিছু মামলার দিকে। সরকারপক্ষ এই মামলার বিবরণটা যেভাবে দেয়, তা এরকম : “২০০১ থেকে ২০০৭ সময়কালে বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন “শহীদ জিয়াউর রহমান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট” গঠন করা হয়। খালেদা জিয়া হন এর প্রথম ট্রাস্টি, আর অপর দুই ট্রাস্টি হন তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান। ২০০৫ সালের ৯ জানুয়ারি সোনালী ব্যাংকে এই ট্রাস্টের নামে একটা একাউন্ট খোলা হয়। পরে বিভিন্ন অবৈধ উৎস থেকে এই একাউন্টে অর্থ জমা করা হয়। তদন্তের সময় দেখা যায়, ২০০৫ এর ১৩ জানুয়ারি থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে সেখানে বিএনপির বিভিন্ন একাউন্ট থেকে ৬ কোটি ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা জমা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কাকরাইল এলাকায় সুরাইয়া খানের কাছ থেকে ৪২ কাঠা জমি কেনেন ৬ কোটি ৫২ লাখ ৭ হাজার টাকা দিয়ে। সুত্রাপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সেটা নিবন্ধন করা হয়। কিন্তু জমিটি ট্রাস্টের নামে নামজারি করা হয়নি। এই দামের বাইরে আরও ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বিক্রেতাকে দেয়া হয়। আরও দেখা যায় যে, মোট ৭ কোটি ৮০ হাজার ৮৯ হাজার ৫২৯ টাকা বিভিন্ন জায়গা থেকে এই ট্রাস্টের একাউন্টে জমা হয়েছে। বিএনপির দলীয় ফান্ড ব্যতিরেকে অন্য উৎসগুলোকে বৈধ উৎস বলা যায় না।” আসামী পক্ষ থেকে বলা হয়, পার্টি ও যে সকল ব্যক্তিগত উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে তার, কোনোটিই অবৈধ নয়। আর কোনো প্রাইভেট ট্রাস্টের কোনো কর্মকা-কেই সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার বলা যায় না। এই মামলার প্রেক্ষিতে বিচারিক আদালত যে রায় দিয়েছে, সেটা কোনোভাবেই বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ এটা চূড়ান্ত রায় নয়, তাছাড়া এই মামলার আপিলের সময় এখনো অতিক্রান্ত হয়নি কিংবা আপিল নিষ্পত্তিও হয়নি। এরকম ঘটনা আগেও আরও হয়েছে। ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া কিংবা আবদুর রহমান বদি এমপি’র ক্ষেত্রে এরকম উদাহরণ রয়েছে। বিচারিক আদালতে তাদের বিরুদ্ধে তাদের সাজা হয়েছিলো, কিন্তু যেহেতু তাদের আপিল নিষ্পত্তি হয়নি, তাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ কিংবা সংসদ সদস্য হিসাবে কাজ করার ক্ষেত্রে আইন কোনো বাধা হয়নি। কাজেই বিচারিক আদালতের রায় আপিল আদালতেও নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রার্থীর অযোগ্যতা বলে বিবেচিত হবে না। এটাই আইনের কথা। আর এ কারণেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালত সাত বছরের কারদ- দিলেও বেগম খালেদা জিয়া এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। আইন এক্ষেত্রে কোন বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

অন্যান্য সংবাদ