প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুষ্ঠু ভোটের ব্যবস্থা এখনো হয়নি

ডেস্ক রিপোর্ট : শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যাবে। সেখানে তারা ইসিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল পেছানোর জন্য বলবে। এ ছাড়া ফ্রন্ট নেতারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আগামী শুক্রবার প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠক শেষে ফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এসব কর্মসূচির কথা জানান। দেড় ঘণ্টার বৈঠকে নির্বাচনের তফসিল, নির্বাচনী পরিবেশসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা যে দাবি করেছি নির্বাচন এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার জন্য, এটা অত্যন্ত জরুরি। আমরা আগামীকাল (আজ) দুপুর ১২টায় আমাদের এই দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাব। ড. কামাল হোসেনসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ সেখানে থাকবেন। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন আমাদের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।’ তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা করতে ব্যর্থ হয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু তা করা হয়নি। এতে আমরা অত্যন্ত হতাশ।’

তফসিলের তারিখ আর পেছানো হবে না—প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই স্পষ্ট বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ফ্রন্টের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা সে জন্যই তো যাচ্ছি। উনি (সিইসি) স্পষ্ট করে বললে তো হবে না। আমরা আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো অবশ্যই বলব। সিইসি তো সব একাই বলে যাচ্ছেন।’

কেন নির্বাচনের তফসিল আবারও পেছানোর দাবি তার ব্যাখ্যায় ফখরুল বলেন, নির্বাচন এক মাস পেছাতে আমরা দাবি করেছি। কারণ ভোটের যে সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে সে সময়টিতে বড়দিনের ছুটি থাকে। ওই সময় আমাদের খিস্টান সম্প্রদায় একটা উৎসবের আমেজে থাকে, তাদের ধর্মীয় বড়দিন এ সময়। এ ছাড়া খ্রিস্টীয় নববর্ষ আসছে, সেটা একটা বড় অনুষ্ঠান। আমরা যে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আশা করছি একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন দেখার জন্য, ওই সময়ের কারণে তাদেরও আসার সুযোগ থাকছে না। আমরা এটাতে (৩০ ডিসেম্বর ভোটের তারিখ) অত্যন্ত হতাশ হয়েছি এবং আমরা মনে করছি, কমিশন একটা সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন করার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নয়।’

ফখরুল জানান, আগামী ১৬ নভেম্বর জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন মতবিনিময় করবেন। এরপর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় হবে। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে বসার সময় পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এ সময় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘দেশ সম্পূর্ণ অনিয়মে চলছে। আমরা সেটা নিয়মে আনতে চাই। নির্বাচন কমিশন ঠিকমতো চলছে না। তারা যে নির্বাচন সাত দিন পিছিয়েছে, সেটা অন্যায়। এটা তো সরকারের আহ্বান। বদরুদ্দোজা চৌধুরীর আহ্বান। আমরা তো এক মাস চেয়েছি। দেশের মানুষ এক মাস পেছানোর কথা বলেছে।’ প্রতিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল ঘোষণা করা হতো উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন সেটা করেনি। সে জন্য আমার সন্দেহ হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভালোভাবে নির্বাচন করতে পারবেন কি না। এই সন্দেহ এখনো মানুষের মধ্যে আছে। অনেকের ধারণা, সরকার ভোট নিয়ে যাবে। আমার ধারণা, সরকার ভোটে টিকতেই পারবে না।’

ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার তৈরির জন্য ঐক্যফ্রন্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে এ পর্যন্ত ছয়জনকে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন- বিএনপির পক্ষে মাহফুজ উল্লাহ, গণফোরামের পক্ষে আ ও ম শফিক উল্লাহ, নাগরিক ঐক্যের পক্ষে ডা. জাহেদ উর রহমান, জেএসডির পক্ষে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের পক্ষে অধ্যক্ষ ইকবাল সিদ্দিকী এবং ফ্রন্টের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। জানা গেছে, বিএনপি ঘোষিত ভিশন ২০৩০-কে সামনে রেখে ইশতেহার প্রণয়নের জন্য কমিটির নেতারা শিগগিরই বসবেন।

ড. কামালের সভাপতিত্বে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুল ছাড়া জেএসডির আবদুল মালেক রতন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমদ, গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ