প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ. লীগের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ

ডেস্ক রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের জন্য বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে। দলীয় কোন্দল নিরসন, সঠিক প্রার্থী বাছাই, জনগণের আস্থা অর্জন, নির্বাচন পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি প্রভাবশালী বিদেশি শক্তিগুলোকে সরকারের পাশে রাখা আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিপক্ষের অপপ্রচার মোকাবেলা করে জনসমর্থন অনুকূলে রাখাও চ্যালেঞ্জ হিসেবে আছে ক্ষমতাসীন দলের সামনে। দলটির বিভিন্ন পৎসয়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপির অনুপস্থিতিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সহজেই জয় পেয়েছিল ক্ষমতাসীনরা। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মিত্র জাতীয় পার্টি মহাজোটে থাকার জন্য দাবি করেছে ১০০ আসন। দুই মেয়াদে সঠিক মূল্যায়ন হয়নি জানিয়ে ১৪ দলের শরিকদেরও রয়েছে বেশ কিছু দাবি। টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেমন দৃশ্যমান হয়েছে, তেমনি টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় যাওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের জন্য সৃষ্টি হয়েছে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা। নির্বাচনে জয়ী হতে হলে আওয়ামী লীগকে মোকাবেলা করতে হবে এসব প্রতিবন্ধকতা।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথমত, দলীয় প্রার্থী বাছাই, দলের নেতাকর্মীদের মনের মধ্যে যে দুঃখ আছে তা দূর করে তাদের এক করা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতচক্র আমাদের বিরুদ্ধে সক্রিয় আছে, তাদের মোকাবেলা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পক্ষে রাখা দরকার।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) প্রস্তুত। তৃণমূল পর্যন্ত তাদের সংগঠন আছে। তবে এবার দলে অনেক বেশিসংখ্যক নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী। এটা একটা সমস্যার কারণ হতে পারে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো একক প্রার্থী বাছাই করা। চার হাজারের বেশি প্রার্থীর মধ্য থেকে আড়াই শর মতো প্রার্থী বাছাই করা খুব কঠিন কাজ।’

এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার তেমন বেগ পেতে হবে না। সকলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে এসব গোষ্ঠীর তেমন কোনো চাপ থাকে না।’

দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় বিএনপি মাঠছাড়া। সাধারণত কোথাও এখন আর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের খবর পাওয়া যায় না। বরং ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রভাব বিস্তার, এলাকার নিয়ন্ত্রণসহ দলীয় মনোনয়ন ঘিরে আওয়ামী লীগের সব স্তরে বিরাজ করছে তীব্র কোন্দল। সর্বত্রই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগ। এই কোন্দল নিরসন করে নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা আওয়ামী লীগের জন্য কঠিন একটি কাজ।

কোন্দল নিরসন করে প্রতি আসনে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিতে না পারলে আওয়ামী লীগকে জয়ের জন্য কঠিন বেগ পেতে হবে। ৩০০ আসনের জন্য এবার আওয়ামী লীগের চার হাজারের বেশি নেতা দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। যাঁরা মনোনয়ন পাবেন না সেই নেতাদেরও অনেক অনুসারী আছে দলে। সেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ রেখে নৌকার পক্ষে মাঠে নামাতে হবে।

ক্ষমতার দুই মেয়াদে দলের অনেক নেতাকর্মী উপেক্ষিত ও বঞ্চিত হয়েছে বলে দলের বিভিন্ন ফোরামে অভিযোগ করে আসছে। আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসন করতে কেন্দ্রীয়ভাবে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন্দল আগামী নির্বাচনের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে রাজশাহীতে আমরা কোন্দল নিরসন করে নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারব আশা করছি।’

শেয়ারবাজারে বিপর্যয়ে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা ক্ষমতাসীনদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর বাইরে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ।

বিএনপিকে ছাড়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার পর অধিকাংশ বিদেশি কূটনীতিক ওই নির্বাচন সম্পর্কে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন কোনো কোনো বিদেশি কূটনীতিক। এ অবস্থায় সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চান কূটনীতিকরা।

মতিঝিল থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পর এবং নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার হয়েছিল। নির্বাচনের আগে আগে আবারও ওই ধরনের অপপ্রচার হওয়ার আশঙ্কা আছে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি নির্বাচনের আগে আন্দোলন বেগবান করে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবে। আওয়ামী লীগের জন্য এটাও বড় চ্যালেঞ্জ।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে কিছু উদ্যোগও নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। গত ২১ অক্টোবর জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। চিঠিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করতে সুনির্দিষ্টভাবে চার দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনার মধ্যে আছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করাসহ বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচার করা এবং প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়নে গণসংযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে, এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী কর্মসূচিতে সবাইকে অংশগ্রহণ করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ২০১৪ সালের মতো আবারও যাতে নির্বাচনকালে জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা, সন্ত্রাস, নাশকতা চালাতে না পারে সে জন্য সতর্ক থাকতে এবং ধ্বংসাত্মক তৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।

সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ