প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নহাটা খাল দখল করে মার্কেট

ডেস্ক রিপোর্ট : মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা বাজার সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে নহাটা খাল দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন ওই এলাকার প্রভাবশালী তিন সহোদর। এতে সম্পূর্ণভাবে অস্তিত্ব হারিয়েছে সরকারি নহাটা খালটি। এতে বাজারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নহাটা-মহম্মদপুর ও নহাটা-রাজাপুর সড়কও ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে। ফলে ব্যস্ততম এই দুটি সড়কে যানবাহন চলাচলসহ বাজারের ব্যবসায়ী ও বাজারমুখী মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ছাড়া নহাটা বাজারটির সংযোগ সড়ক দুটিও দখলদারদের থাবায় সংকুচিত হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী তিন সহোদর মাফুজার সর্দার, রকিব সর্দার ও সুজন সর্দার নহাটা বাজার এলাকার সরকারি খাল ভরাট করে দীর্ঘদিন ধরে ১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে ৩টি প্রতিষ্ঠানে নিজেরা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন। নির্মাণাধীন রয়েছে আরও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়রা জানান, সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তারা এ মার্কেট নির্মাণ করেছেন।

বাজার ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ জানান, নির্মাণাধীন মার্কেটের জায়গাটি মাগুরা জেলা পরিষদের। অবৈধ দখলে কর্তৃপক্ষ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। তবে নির্মাণকালীন উপজেলা প্রশাসন কাজ বন্ধের নির্দেশনা দিলেও তা উপেক্ষা করে এই মার্কেটটি নির্মাণ করেন তারা। তিন সহোদর এলাকার মৃত ইমরাত সর্দারের ছেলে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এরশাদ সরকারের আমলে নহাটা বাজারের সঙ্গে মহম্মদপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে মূল রাস্তাটি প্রশস্তকরণ এবং পার্শ্ববর্তী ফসলের মাঠে সেচ ব্যবস্থা সহজতর করতে সড়কের উত্তর পাশ দিয়ে নহাটা খাল খনন করা হয়। সম্প্রতি খালটি স্থানীয়রা ভরাট করে যার যার মতো দখলে নেয়। দখলের ফলে অস্তিত্ব হারায় খালটি। খালের বুকজুড়ে এখন প্রভাবশালীরা মার্কেট নির্মাণ করে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য করে এলেও মাথাব্যথা নেই কর্তৃপক্ষের।

দখলদার তিন সহোদরের মধ্যে সুজন সর্দারের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, এটা আমাদের পৈতৃক সম্পতি। মার্কেট নির্মাণকালীন স্থানীয় নায়েব এসেছিলেন। আমরা তাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। মাগুরা জেলা পরিষদও ডেকেছিল। সেখানে আমাদের সম্পত্তির সপক্ষে জবাব দিয়ে এসেছি।

নহাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আলী মিয়া বলেন, মার্কেটটি নির্মাণের শুরুতেই মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় নির্বাহী অফিসারকে বারবার অবহিত করেছি। অথচ এ বিষয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বরং স্থানীয় ভূমি অফিসের নায়েবের সহযোগিতায় তিন ভাই মিলে এই মার্কেট গড়ে তুলেছেন।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে নায়েব মো. সাইফুজ্জামান বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি কাজ বন্ধে কয়েকবার দখলদারদের নোটিশ দিয়েছি।

মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসিফুর রহমান বলেন, আমি এখানে সদ্য যোগদান করেছি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পংকজ কুমার কুণ্ডু বলেন, খবর পেয়েছি। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র ; সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ