প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বর্ণবাদের কালো থাবা-
‘আভিজাত্যের দেমাগেই হিরো আলমকে মেনে নেয়া সম্ভব হয় না’

সৌরভ নূর : নির্বাচনে অংশ নিতে বিভিন্ন তারকা বা পরিচিত ব্যক্তিত্বের মনোনয়ন পত্র কেনা এটাই প্রথম নয়, তবে সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে শুধুমাত্র হিরো আলমকে ঘিরেই কেন এতো আলোচনা-সমালোচনা ?

নিজেকে অভিনেতা ও মডেল হিসেবে পরিচয় দেয়া বহুল আলোচিত-সমালোচিত হিরো আলম ওরফে আশরাফুল আলম সোমবার বিকেলে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে উঠেছে ঝড়। চলছে আলোচনা-সমালোচনা এবং পক্ষে-বিপক্ষের বিভিন্ন মতামত। যদিও অধিকাংশ মতামতই হিরো আলমকে কটাক্ষ করে কিংবা অযোগ্য হিসেবে টিটকারি ছুড়ে দেওয়া ।

তবে হারুন উর রশিদ নামক এক ব্যক্তি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এটাকে এক ধরণের-বর্ণবাদ-হিসেবে আখ্যা দিয়ে লিখেছেন, `হিরো আলম বা ময়ূরীরা মনোনয়ন ফরম কিনলে দোষ হয়। হাসি ঠাট্টা ট্রল হয়। এটাই বর্ণবাদ।’

ঐ ফেসবুকার হিরো আলম প্রসঙ্গে বিবিসিকে বলেন, `হিরো আলম নিম্নস্তর থেকে উঠে আসা একজন মানুষ। তিনি তার মতো সংগ্রাম করে আজকের জায়গায় এসেছেন। কিন্তু তার এই উঠে আসাটা, আমাদের অনেক বর্ণবাদী মন মেনে নিতে পারছেনা। এজন্যই তাকে নিয়ে এতো ট্রল হচ্ছে। হিরো আলম রাজনীতিতে আসার ক্ষেত্রে যোগ্য নাকি অযোগ্য সেটা নিয়ে কিন্তু আলোচনা হচ্ছে না, বরং তার শ্রেণী বা ভাষা নিয়েই কটাক্ষ করা হচ্ছে। এ ভাবেই নিজের অজান্তে আমরা বর্ণবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছি।’

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস হিরো আলমের এই আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠার পেছনে দুটো মানসিক দৃষ্টিভঙ্গিকে দায়ী করেছেন। রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আমাদের নাগরিক উন্নাসিকতা ও জাত্যভিমানের কথা। যার কারণে অন্যকে নিজের চাইতে খাটো করে দেখার প্রবণতা দেখা যায়। আমাদের সমাজে যারা সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম ব্যবহার করে, তাদের একটি বড় অংশ উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত। তারা এক ধরণের আভিজাত্যের দেমাগে ভোগেন।

তিনি আরও বলেন, যখন হিরো আলমের মতো কেউ রাতারাতি খ্যাতি পেয়ে যান, তখন তাদের ওই দুটি মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি সেটা মেনে নিতে চায় না। তখন তারা ঐ ব্যক্তিকে যেভাবে পারে ব্যঙ্গ করে, উপহাস করে। আর এগুলোই তাকে আরও বেশি আলোচনায় আনে। যেটা এলিট শ্রেণীর অন্য তারকাদের সহজে আনে না। বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ