প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর খাদিজা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার

সুজন কৈরী : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যৌতুকের জন্য চাঞ্চল্যকর খাদিজা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন- সিরাজ ওরফে পাতলা সিরাজ ওরফে সিরা (৩২)। দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না পেয়ে থাদিজাকে হত্যা করেন সিরাজ বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার ভোরে রূপগঞ্জের পূর্বাচলের ৮নম্বর সেক্টরের ৫নম্বর ওয়ার্ডের সুলপিনা গ্রামের জনৈক বিশু মিয়ার বাড়ীর সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গত ৩১ অক্টোবর রূপগঞ্জের মাঝিপাড়া গ্রামে গ্রেফতার সিরাজের বসত ঘরের চালে বাঁশের ধড়নার সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় খাদিজা আক্তারের (২৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে র‌্যাব। এরই প্রেক্ষিতে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী সিরাজকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-১ অধিনায়ক সারওয়ার বিন কশেম বলেন, ৬ থেকে ৭বছর আগে রুপগঞ্জের মাঝিপাড়া (লালমাটি) এলাকার বাসিন্দা মৃত আমিন উদ্দিনের ছেলে সিরাজ ময়মনসিংহের ধোবাউরার বাতুরি গ্রামের বাসিন্দা আ. হান্নানের মেয়ে খাদিজাকে ইসলামী শরিয়া মোতাবেক বিয়ে করেন। তাদের জুঁই নামে ৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। বিয়ের পর থেকে সিরাজ বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে খাদিজাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে খাদিজার পরিবার সিরাজকে ৩লাখ টাকা যৌতুক দেয়। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে আবারো ২লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে সিরাজসহ তার পরিবারের সদস্যরা খাদিজার উপর নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে খাদিজা শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন সহ্য করে সংসার করছিল। এর মধ্যে প্রায় দেড় বছর আগে সিরাজ খাদিজা হত্যা মামলার ৩নম্বর পলাতক আসামী রূপগঞ্জের ৫নম্বর ইউপি ওয়ার্ডের ৮ নম্বর পূর্বাচল সেক্টরের সুলপিনা গ্রামের বাসিন্দা বিশু মিয়ার মেয়ে ফাতেমা আক্তার ওরফে ফতুকে (৩৫) গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ারপর প্রায় সময়ই পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হতো।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক জানান, যৌতুকের টাকা না পেয়ে ও দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচনায় এজাহার নামীয় অপর আসামীরা মিলে খাদিজা আক্তারকে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে লাশের গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে সিরাজের থাকার ঘরের চালের বাঁশের ধড়নার সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরে খাদিজার মাকে মোবাইল ফোনে কল করে খাদিজা গুরুতর অসুস্থ বলে জানায় এবং মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ