প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাগ প্রশমনে যা করতে বলেছেন রাসূল সা.

আমিন মুনশি : হযরত আবু যর (রাঃ) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে ক্রোধ সংবরণের কৌশল বলা হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ক্ষুব্ধ হবে তখন দাঁড়িয়ে থাকলে সে যেন বসে যায়। এতেও যদি তার রাগ দূর না হয় তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে।’ (আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাঊদ হা/৪৭৮২, মিশকাত, হা/৫১১৪)

অন্য হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন- ‘যখন তুমি ক্রদ্ধ হবে তখন চুপ থাকবে’। (আল-আদাবুল মুফরাদ হা/১৩২০)

সোলায়মান ইবনু ছুরাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাঃ)-এর সঙ্গে বসা ছিলাম। তখন দু’জন লোক গালাগালি করছিল। তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল এবং তার রগগুলো ফুলে উঠছিল। তখন নবী করীম (সা.) বললেন, আমি এমন একটি দোয়া জানি, যদি এই লোকটি তা পড়ে তবে তার রাগ দূর হয়ে যাবে।

দোয়াটি হলো- ‘আ‘উযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রজীম’। অর্থাৎ আমি বিতাড়িত শয়তানের কাছ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। এটি পাঠ করলে তার রাগ চলে যাবে। তখন লোকেরা তাকে বলল, নবী করীম (সা.) বলেছেন, তুমি আল্লাহর নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় চাও।’ (বুখারী হা/৩২৮২ ‘সৃষ্টি সূচনা’ অধ্যায়; মুসলিম হা/২৬১০)

ক্রোধ সংবরণ করার ফজিলত সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি বাস্তবায়ন করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও রাগ চেপে রাখে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টজীবের সামনে তাকে আহবান করে যে কোন হুর নিজের জন্য পছন্দ করার অধিকার দিবেন।’ (ইবনু মাজাহ হা/৪১৮৬; তিরমিযী হা/২০২১)

অন্য হাদিসে এসেছে- ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন ব্যক্তির রাগ দমন করার চেয়ে আল্লাহর নিকট বড় প্রতিদান আর নেই’। (ইবনু মাজাহ, হা/৪১৮৯, আহমাদ, মিশকাত হা/৫১১৬)

সুতরাং একজন মুসলমানের উচিত রাগান্বিত অবস্থায় সর্বোচ্চ ধৈর্য্যের পরিচয় দেওয়া। এর মাধ্যমে যে কোন অনিষ্ট হতে যেমন রক্ষা পাওয়া সহজ হবে, তদ্রুপ পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধের সৌধও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ