প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ওপর প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে’

ফরিদুল মোস্তফা : কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের  রোহিঙ্গাদের আগামী ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে  প্রত্যাবাসন শুরু করবে (ইউএনবি)। রোহিঙ্গাদের প্রথম পর্যায়ের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সহযোগিতায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে প্রত্যাবাসনের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করছে রোহিঙ্গাদের ‘স্বেচ্ছায়’ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ওপর।

‘আগামী বৃহস্পতিবার প্রত্যাবাসন শুরু করার উদ্দেশে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রত্যেক দিন ১৫০ জন রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ চলবে।’ ১৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘ইউএনএইচসিআর রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করবে, যাতে কেউ বাধ্য হয়ে শিবির ছেড়ে না যায়।’ ১৫-৩০ নভেম্বর প্রথম ব্যাচের প্রত্যাবাসনে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের গ্রামভিত্তিক তালিকা দিয়েছে মিয়ানমার।

এর আগে ১৫ নভেম্বর থেকে প্রথম পর্যায়ে ৪৫০ জন হিন্দুসহ ৪৮৫ পরিবারের মোট ২ হাজার ২৬০ রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।

মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সেক্রেটারি মিয়ান্ট থু জানান, তারা প্রায় পাঁচ হাজার রোহিঙ্গাকে যাচাই-বাছাই করেছেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী দ্বারা অত্যাচার নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়ে সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। এছাড়া আগে থেকেই আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা একই কারণে কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছিল।

বস্তুত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই চাপের মুখেই মিয়ানমার তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে ব্যাপারে কোনো দেশের কাছে সুস্পষ্ট কিছু জানা না গেলেও এটি যে দীর্ঘ সময় লাগবে, সে ব্যাপারে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, শুরুতে মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া হলেও রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থনীতি ও পরিবেশের পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ