Skip to main content

ফুলবাড়ীতে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি

রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পানির দামে বিক্রি হচ্ছে শীতকালীন সবজি। পাইকারী বাজারে ফলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫টাকা কেজি দরে। একই অবস্থা বেগুন বাধাকপি, মুলা। তবে পাইকারী বাজারের তুলুনায় খুচরা বাজারে এর দাম অনেক বেশি। হেমন্তের মাঝামাঝিতে এসে হিমালয়ের পাদদেশ এলাকা হিসেবে সীমান্তের কোলঘেষা উত্তরের জেলা দিনাজপুরের ফুলবাড়ীসহ এর আশপাশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জেকে বসতে শুরু করেছে শীত। শীতবাড়ার সাথে সাথে শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাধাঁ কপি বেগুন মালু গাজর এর উৎপাদন বেড়েছে এই কারনে বাজারে শীতকালীন সবজির আমদানীও বেড়েছে ব্যাপক। উৎপাদন ও আমদানী বাড়ায় শীতকালীন সবজির দাম কমতে শুরু করেছে । ফুলবাড়ী পৌর বাজার ঘুরে দেখা যায় ফুলকপি ২০০ টাকা (৪০কেজি) মন দরে বিক্রি হচ্ছে, বাধাকপি ১৫০টা, বেগুন ২০০ টাকা, মুলা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ টাকা মন দরে। রাজারামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান তিনি মাত্র ৮০ টাকা মন দরে মুলা বিক্রি করেছেন, ফারুক হোসেন বলেন ২০০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছে বেগুন। তরে পাইকারী বাজারে সবজির দাম কম হলেও খুছরা বাজারে এর দাম অনেক বেশি। পাইকারী বাজারে ৫টাকা কেজি দরে ফুলকপি বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে এর দাম ১৫ টাকা কেজি, মেতনী বেগুন বাধাকপির দামও পাইকারী বাজার উপেক্ষ খুচরা বাজারে অনেক বেশি। ফুলবাড়ী বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহাজামাল বলেন, পাইকারী বাজার থেকে সবজি কিনে খুছরা বাজারে বিক্রি করতে অনেক ঘাটতি হয সেই কারনে খুছরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। তবে তিনি বলেন গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে শীতকালীন সবজির দাম প্রতি কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমে অর্ধেকে নেমেছে। বর্তমানে বাজারে শীতকালীন সবজি প্রতি কেজি পাতা পিয়াজ ৬০টাকা থেকে কমে হয়েছে ৩০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১২ টাকা, বাঁধাকপি ২০টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০ টাকা, সীম ৫০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৩০ টাকা, মুলা ১০টাকা থেকে কমেছে হয়েছে ৪ টাকা, লাউ ২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০ টাকা, করলা ৫০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৪০ টাকা, বেগুন ২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০ টাকা, বটবটি ২০টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৫ টাকা, পালংশাক ৫ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২ টাকা, টমেটো ৮০টাকা থেকে কমে হয়েছে ৭০ টাকা, শসা ৪০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৩০ টাকা, ওঁলকচু ৪০টাকা থেকে কমে হয়েছে ৩০ টাকা। তবে এখনো নতুন আলু বাজারে না ওঠায় আলুর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে । পৌর শহরের সবজি বিক্রেতারা বলেন স্থানীয় ভাবে শীতকালীন সবজির উৎপাদন ও আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে সবজির দাম কমেছে। সবজি বিক্রেতারা বলেন এখন কার্তিক মাসের শেষ প্রান্তে হেমন্তের মাঝামাঝি এরপর শুরু হবে শীতকাল। শীতকালে এই সবজির উৎপাদন ও আমদানী আরো বৃদ্ধি পাবে। সবজি চাষী করিম বলেন, গত এক সপ্তাহের ব্যাবধানে সবজি উৎপাদন ও আমদানী বেশি হওয়ায় দাম অর্ধেক কমেছে। স্টোরের আলু শেষের পথে তবুও এবার নতুন আলু এখনো বাজারে দেখা মিলছে না তাই নতুন আলু আসার পুর্বে আলুর দাম কিছুটা বাড়তে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামীম আশরাফ বলেন, সবজি উৎপাদন বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তারপরও কৃষক যে পরিমান মূল্য পাচ্ছে এতে করে তাদের লোকসান হওয়ার কথা নয়। তবে যারা আগাম সবজী চাষাবাদ করেছে তারা অন্যান্যদের তুলাই বেশি লাভবান হচ্ছেন।