প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৫০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চায় জামায়াত

মহসীন কবির : নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয় পরিচয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই জামায়াতে ইসলামীর। এরপরও তারা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। ঢাকাসহ জামায়াতের জেলা কার্যালয়গুলোও রয়েছে বন্ধ। এ রকম কোণঠাসা জামায়াতও আসন পেতে জোরালো দরকষাকষি করছে। ৫০ আসনে তারা প্রার্থী হতে চায়। গতকাল পর্যন্ত ১৬টি আসনে জামায়াত নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম অভিযোগ করে বলেছেন, সরকার তাদের ভোটের উৎসব থেকে বঞ্চিত করছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলতে দিচ্ছে না। যাকে যেখানে পাচ্ছে, গ্রেফতার করছে। তাই তারা দলীয় মনোনয়ন ফরম দিতে পারছেন না। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি আসনে ভোটে লড়েছিল জামায়াত। একটিতে শেষ সময়ে বিএনপিকে সমর্থন দেয়। ৩৩টিতে বিএনপির প্রার্থী ছিল না। জামায়াতের প্রার্থীরা ছিলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী। বাকি পাঁচ আসনে বিএনপি ও জামায়াত-দুই দলেরই প্রার্থী ছিল। ২০০১ সালে ৩১টি আসনে লড়েছিল জামায়াত। ৩০টিতে জোটের সমর্থন পেয়েছিল।

পরিবতির্ত পরিস্থিতি ও নিবন্ধন বাতিলের পর নিবার্চনে কৌশল কী হবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক নেতা বলেন, ‘এখন পযর্ন্ত দলের সিদ্ধান্ত আছে স্বতন্ত্রভাবে আমাদের প্রাথীর্রা নিবার্চন করবেন। সেক্ষেত্রে জোটের কাছে আমরা ৫০-৬০ আসন চাইব। কতটা দেবে সেটা দেখতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। জামায়াতের সবোর্চ্চ নীতি নিধার্রণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নিবার্হী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিমের বলেন, ‘আমাদের প্রাথীর্রা নিবার্চনে অংশ নেবে। তবে কী কৌশলে অংশ নেবে সেটা এখনই বলা কঠিন। আসন ভাগাভাগির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই-একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, এককভাবে জয়ী হওয়ার মতো ৮টি আসনে প্রার্থীরা হলেন- গাইবান্ধা-১, মাজেদুর রহমান নীলফামারী-২, মনিরুজ্জামান মন্টু সাতক্ষীরা-১, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরা-৩, মুফতি রবিউল বাশার সাতক্ষীরা-৪, গাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা-১১, ডা. সৈয়দ আবদুল্লা মো. তাহের চট্টগ্রাম-১৫, আ ন ম শামসুল ইসলাম অথবা শাহজাহান চৌধুরী এবং কক্সবাজার-২, হামিদুর রহমান আযাদ।

এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-১, চট্টগ্রাম-১৬, কক্সবাজার-৩ আসনে জোটের মনোনয়ন পেতে মরিয়া জামায়াত। রাজশাহী-১ আসনে প্রার্থী হবেন দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান। ঢাকা-১৫ আসনে প্রার্থী হবেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। এ দুটি আসনেও জোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে জামায়াত মরিয়া। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পিরোজপুর-১ আসনে প্রার্থী হবেন তার ছেলে শামীম সাঈদী। পিরোজপুর-২ আসনে প্রার্থী হতে চান সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদী।

এছাড়া আরও কয়েকটি আসনে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চান এর মধ্যে রয়েছে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, নুরুল ইসলাম বুলবুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, মো. লতিফুর রহমান রাজশাহী-১, মুজিবুর রহমান সিরাজগঞ্জ-৫, আলী আলম; সিরাজগঞ্জ-৪, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান পাবনা-১, আবদুর রহিম পাবনা-৫, ইকবাল হুসাইন ঠাকুরগাঁও-২, আবদুল হাকিম দিনাজপুর-১, মোহাম্মদ হানিফ দিনাজপুর-৬, আনয়ারুল ইসলাম; নীলফামারী-২, মনিরুজ্জামান মন্টু রংপুর-৫, গোলাম রাব্বানী কুড়িগ্রাম-৪, নূর আলম মুকু গাইবান্ধা-১, মাজেদুর রহমান গাইবান্ধা-৪, আবদুর রহিম সরকার চুয়াডাঙ্গা-১, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঝিনাইদহ-৩, মতিয়ার রহমান যশোর-১, আজিজুর রহমান যশোর-২, আবু সাইদ মুহাম্মদ সাদাত হোসাইন বাগেরহাট-৪, শহীদুল ইসলাম খুলনা-৫, মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনা-৬, শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুছ সাতক্ষীরা-১, অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্লাহ সিলেট-৫, ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী সিলেট-৬, হাবিবুর রহমান চট্টগ্রাম-১৬, জহিরুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-৩, জি এম রহিম উল্লাহ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ