প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘রাজনীতিই এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা’

রবিন আকরাম : বগুড়া-৪ আসনে নির্বাচন করতে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন হিরো আলম। তাকে এখানে পরিচয় দেয়ার নিশ্চয়ই প্রয়োজন নেই। কারণ হিরো আলম কেবল একজন ব্যক্তি বা একটি নাম নয়; হিরো আলম এখানে একটি প্রবণতা। হিরো আলম একটি উদাহরণমাত্র। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিরো আলমদের উত্থান এবং তাদের এমপি-মন্ত্রী হওয়া নতুন কিছু নয় বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও কলামিস্ট আমীন আল রশীদ।

মঙ্গলবার চ্যানেল ওয়ান-এর অনলাইনে এসব কথা লিখেছেন তিনি।

আমীন আল রশীদের ভাষায়, আপনি আপনার এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখুন, যাদের ওই অর্থে কোনো পারিবারিক পরিচয় নেই, লেখাপড়া নেই, সাংস্কৃতিক মান তলানিতে, যাদের সাথে হয়তো পারতপক্ষে আপনার কথা বলার রুচি হয় না—তাদের পোস্টারে দেয়াল ছেয়ে আছে; হয় ঈদের শুভেচ্ছায়, নয়তো ভোট ও দোয়া চেয়ে। এইসব পোস্টারে তাদের নিজেদের ছবির পাশাপাশি শোভা পায় জাতীয় নেতাদের এমনকি খোদ জাতির পিতার ছবিও এবং এই লোকেরাই একসময় আপনার পৌরসভায়, উপজেলায়, সংসদীয় আসনে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। একসময় যার চাল-চুলো বলতে কিছুই ছিল না, দশকের ব্যবধানে সেই লোককেই হয়তো আপনি দেখছেন ফুরফুরে পাঞ্জাবি গায়ে, দামি গাড়িতে চড়ে গরিব মানুষের মাঝে পয়সা বিলাচ্ছেন। খুবই জনদরদি, গরিবের বন্ধু।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, সংবিধান তো কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত এবং পাগল ছাড়া যেকাউকেই (২৫ বছর হলেই) জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার কিংবা নির্বাচন করার অধিকার দিয়েছে; সেখানে শিক্ষা-দিক্ষারও কোনো শর্ত নেই; এমনকি আইনপ্রণেতা হওয়ার জন্যও ন্যূনতম শিক্ষিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, সেখানে হিরো আলমরা এমপি হলে ক্ষতি কী? তাছাড়া জনগণই তো তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করছে।

বাস্তবতা হলো, রাজনীতিই এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। এখানে বিনিয়োগ মানেই মুনাফা নিশ্চিত। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে থাকলে লাভটা নগদ। আবার বিরোধী শিবিরে থাকলেও ভবিষ্যতে যখন দল ক্ষমতায় যাবে, তখন সুদে-আসলে সব তুলে নেয়া যায়। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সম্প্রতি একটি হিসাব দিয়ে বলেছেন, পাঁচ বছরে প্রতিটি সংসদীয় আসনে গড়ে এক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হয়। আর সব কাজেই সংশ্লিষ্ট এমপির কমিশন হিসেবে গড়ে ১০ শতাংশ টাকা ধরা থাকে। ফলে যিনি সবচেয়ে সৎ এবং নির্লোভ, তিনিও এক হাজার কোটি টাকার ১০ শতাংশ হিসেবে ৫ বছরে একশো কোটি টাকার মালিক হন (দুয়েকজন একেবারেই ব্যতিক্রম থাকতে পারেন)। এর বাইরে এমপি হিসেবে সম্মানি, ন্যাম ফ্ল্যাট, শুল্কমুক্ত গাড়ি, বিদেশ ভ্রমণ, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের তরফে বৈধ-অবৈধ সুবিধা মিলিয়ে আরও প্রচুর অর্থ। সুতরাং এমপি হতে কে না চায়? শুধু একজন হিরো আলমকে দায়ী করে লাভ নেই।