Skip to main content

নির্বাচনের রাজনীতিতে অর্থনীতি

বিভুরঞ্জন সরকার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া তীব্র বেগে বইতে শুরু করেছে। প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলেই শহর-গ্রামে ছুটতে শুরু করবেন ভোটাভিখারিরা। ভোটের সময় ব্যয় হবে হাজার হাজার কোটি টাকা। এ সময়ে তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বত্রই টাকা ওড়ে বলে শোনা যায়। একেক জন প্রার্থীর জন্য নির্বাচন কমিশন ব্যয়সীমা বেধে দিলেও কেউ সেটা মান্য করেন না। প্রতি প্রার্থী কতো ব্যয় করেন তার প্রকৃত হিসাব বের করা কঠিন। ভোট এলে সাধারণ ভোটাররা খুশি থাকে। তাদের কিছু প্রাপ্তি যোগ হয়। তবে নির্বাচনী রাজনীতির সময় দেশের অর্থনীতির হালহকিকত নিয়ে মোটা দাগে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরছি : ১. অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হওয়ায় এবার প্রার্থীর সংখ্যা যেমন বাড়বে তেমনি বাড়বে প্রত্যেক দলের প্রার্থীর সম্মিলিত খরচ। তাতে কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। অনেকের হাতেই বাড়তি টাকা ঘুরবে। বাজারে পড়বে তার প্রভাব। ২. নির্বাচন কমিশনের ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে দরকারি নানা সামগ্রী কিনতে। বাড়বে এগুলোর পরিবহন ব্যয়ও। এসব কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরও হবে কিছু বাড়তি আয়। ৩. ফরেন রেমিটেন্স এ সময়ে ভালো অবস্থায় আছে। বিয়েসহ পারিবারিক আয়োজন এই সময়টায় কিছুটা বেশি হয়। নির্বাচন উপলক্ষ্যে সামাজিকতা আরো বাড়বে। সামাজিকতা মানেই আপ্যায়ন, খাই-খরচা। পয়সা উড়বে সেখানেও। ৪. অর্থপ্রবাহ বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়ার কথা। দেশে এখন এটা সহনীয় পর্যায়ে আছে। মূল্যস্ফীতি বাড়লেও তা সহনীয়ই থাকবে বলে অর্থনীতিবিদদের ধারণা। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। সব্জিরও ভালো উৎপাদন। মাছের বাজারেও হাহাকার নেই। বাজারে এখনো প্রচুর ইলিশ। এগুলো মূল্যস্ফীতি বাড়তে দেবে না। ৫. পোশাক রফতানি এখন ভালো। ক্রিসমাস বা বড়দিন ঘিরে পশ্চিমে চাহিদা বেশি। পোশাক খাত তাই চাঙা। পোশাক খাতে বেতন-ভাতাও নতুন করে বেড়েছে। অসন্তোষ নেই। ৬. তবে এ সময়ে বিনিয়োগে ভাটা চলবে স্বভাবতই। উদ্যোক্তারা দেখতে চাইবেন, সামনে কারা ক্ষমতায় আসে এবং তাদের নীতি বা পলিসি কী হয়। সব আমলেই সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী থাকেন। তারা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন। ব্যাংকগুলোও এ সময়ে সাবধানতার সঙ্গে ঋণ দেবে। এমনিতেও খেলাপি সংস্কৃতির কারণে তারা সাবধান আছে। ৭. সরকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন নির্বাচনের কারণে থেমে থাকবে না। পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এটা সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প। অন্যান্য মেগা প্রজেক্টের কাজও চলমান। এ খাতে অর্থ ছাড়েও সরকার পিছিয়ে নেই। রাজনৈতিক সরকারই থেকে যাওয়ায় উন্নয়ন কাজে কোনো অবহেলা হচ্ছে না, হবে না। নির্বাচনেও এর সুফল সরকার হয়তো পাবে। ৮. রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি যথেষ্ট সন্তোষজনক না হলেও এ মাসে আয়কর প্রদানের সুযোগ শেষ হচ্ছে। তাতে রাজস্ব পরিস্থিতি ইতিবাচক হবে বলেও আশা করা যায়। সব মিলিয়ে রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনের সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও চাঙা থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সাধারণ ভোটারদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি থাকবে। প্রার্থীরা তাদের খাতির-আত্তি করবেন। চা-পান-বিড়ি-সিগারেটের সঙ্গে সঙ্গে ‘নগদ নারায়ণ’-ও একেবারে থাকবে না তা নয়। ভোট আমাদের দেশে মানুষের কাছে উৎসবের মতো। আর অর্থ ছাড়া উৎসব জমে না। ভোটে তাই রাজনীতি ও অর্থনীতি জড়াজড়ি করেই থাকছে।

অন্যান্য সংবাদ