Skip to main content

নির্বাচনে বিএনপি : অবশেষে একটি আশার খবর!

রোবায়েত ফেরদৌস : অবশেষে একটি আশার খবর হয়েছে যে, সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। গত তিন-চার বছর ধরে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি বা টকশোর আলোচনায় চলছিলো, আদৌ কী একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে?। এখন এটি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে, সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে। যদিও নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি আরও একটু বেশি ছিলো। আমরা চেয়েছিলাম সব দলের অংশগ্রহণে একটি ভালো নির্বাচন। এর বাইরে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা এ প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে। এখন হয়তো সবার অংশগ্রহণের একটি নির্বাচন আমরা পাচ্ছি। কিন্তু নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, নির্বাচনের দিন মানুষ সে ভোট দেবে সেখান থেকেই বোঝা যাবে নির্বাচন কতোটা সুষ্ঠু হয়েছে। কতো নিরপেক্ষ হয়েছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কতোটা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সে পর্যন্ত হয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবার জন্য একই মাঠ থাকবে যে বলা হয়েছে, তা এখনো বাস্তবে দেখা যায়নি। শাসক দল সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। আর বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট এখনো কিছুটা বেকায়দায় আছে। এগোরো নভেম্বর পর্যন্ত তাদের অনেক নেতাকর্মীকে ধরপাকড় করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে গ্রেফতার বা আটককৃতদের এখনো ছাড়া হয়নি। লেভেল ফিল্ডের দিক থেকে ক্ষমতাসীন জোট অনেক উপরের দিকে রয়েছে। কারণ সংসদ এখনো ভেঙে দেয়া হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখনো প্রধানমন্ত্রীই আছেন। যেটা হয় বাংলাদেশের রাজনীতি আগে হয়তো কোনো সিটি করপোরেশনের চার-পাঁচ জায়গায় অনিয়ম হয়েছে, সরকারি সমস্ত শক্তি সেখানে নিয়োগ করা হতো, কিন্তু যখন তিনশ আসনে নির্বাচন হবে তখন হয়তো এতোবেশি আসনে এতো শক্তি নিয়োগ সম্ভব হবে না। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এর ফলে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একধরনের ভারসাম্য তৈরি হবে। চাইলেও আওয়ামী লীগ বিএনপির এজেন্টদের বের করে দিতে পারবে না। এলাকাভিত্তিক একটা ভারসাম্য থাকবে বলে আমার মনে হয়। আওয়ামী লীগ-বিএনপি জোটগত বা যেভাবেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক না কেন, দেশের রাজনীতিতে কোনো গুনগত পরিবর্তন আসবে না। হয়তো একটা নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে। কেউ না কেউ ক্ষমতা গঠন করবে। কার্যকর গণতন্ত্র যাকে যাকে বলে, গণতন্ত্রের মূল্যবোধের যে একটা সীমা আছে তা হয়তো আমরা অর্জন করতে পারবো না। এই যে পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি, একদলের অপর দলের ধ্বংস চাওয়া এবং সর্বগ্রাসী দুর্নীতি খুব একটা বন্ধ হবে বলে মনে হয় না। তবে আশার কথা হচ্ছে সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এখন দেখার বিষয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় কিনা। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়-ও কেউ রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে মনে হয় না। জনগণের রাষ্ট্র হবে, বলেও মনে হয় না। সব মানুষের রাষ্ট্র হবে সেই ধরনের কোনো নমুনাও দৃশ্যমান নেই। লেখক : অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাবি.

অন্যান্য সংবাদ