প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় ঘৃণা ছড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ

কল্যাণ চক্রবর্তী : সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ধর্ম নিয়ে ঘৃণামূলক কথাবার্তা ও মন্তব্য করা এখন একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় নিয়েই যে এসব মন্তব্য বেশি করা হচ্ছে, তা কিন্তু নয়। মন্তব্যগুলোও হচ্ছে আক্রমনাত্মক ও নোংরা। এ ধরনের অনুশীলন একটি জাতির ধর্মনিরপেক্ষতাকে নষ্ট করছে, যা খুবই হতাশা ও দুর্ভাগ্যজনক। জাতীয় দলের ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের মুসলিম ছাড়াও অন্য ধর্মের বহু ভক্ত রয়েছে। সম্প্রতি দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন তিনি। সাথে সাথেই সেখানে ঘৃণামূলক এতো মন্তব্য আসতে থাকে যে, শেষ পর্যন্ত তিনি ঐ পোস্টটি মুছে ফেলতে বাধ্য হন। একই ধরনের ঘটনা ঘটে জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনার লিটন কুমার দাসের ক্ষেত্রেও। তবে শুধু তারকা বা সেলিব্রেটিরাই নয়, সাধারণ মানুষও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের ঘৃণামূলক মন্তব্যের শিকার হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১২, ২৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদে যে কোনো ধর্মের মানুষকে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার দেয়া হয়েছে। এছাড়া দণ্ড বিধি-১৮৬০ অনুযায়ী, অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া বা অপমান করা বা ধর্মবিরোধী কথা বলা বা লেখা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধ প্রমাণ হলে অপরাধীর সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল হতে পারে। পাশাপাশি জরিমানাও হতে পারে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর সেকশন ৬৭ অনুযায়ী, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয়ায় সর্বোচ্চ ১৪ বছর ও সর্বনিম্ন ৭ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ তে আরো কঠিন শাস্তিমূলক বিধান রয়েছে। এতে ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করে অন্যকে ভয় দেখানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই আইনের সেকশন ১৭ অনুযায়ী, অন্যকে ভয় দেখানোর জন্য সর্বোচ্চ ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা ও উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে। আর ধর্মীয় ঘৃণামূলক মন্তব্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা ও উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে। এছাড়া এটিকে জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে রাখা হয়েছে।

তবে প্রশ্ন হলো- কতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু মন্তব্য আসে। অনেক সময় একটি গ্রুপ থেকেও মন্তব্য পোস্ট করা হয়। তাহলে কি ঐ গ্রুপের সবার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে? যারা মন্তব্যগুলো করছে, তাদের বেশিরভাগই ভিকটিমের অপরিচিত থাকে। তাই শুধু আইন নয়, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের দিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে। আর সেজন্য আমাদের মানসিকতার উন্নয়ন প্রয়োজন। আর এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা ও উপযুক্ত শিক্ষা।

লেখক : নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র। মূল ইংরেজি লেখা থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ