প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুভ জন্মদিন : জননন্দিত বহুমাত্রিক হুমায়ূন

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে: সাধারণত ১৩ সংখ্যাটিকে অপয়া বলা হয়। বিশ্বের নানা প্রান্তে অপয়া নামে পরিচিত এই সংখ্যাকেও বদলে দিয়েছেন তিনি। জন্মতারিখ যাই হোক-কর্মে এক সৃষ্টিশীল বাংলাদেশি বাঙালি। তার আগমন ছিলো নিভৃতে। আমাদের গোঁফ গজানোর বয়সে দুর্বল ছাপায় তার দুটি বই আমাদের নিশ্বাস আটকে রেখেছিলো। ‘নন্দিত নরকে’ পড়ে আমাদের চোখে পানির ধারা নামলেও শঙ্খনীল কারাগর ছিলো বুকের পাষাণভার। ধ্রুপদী সাহিত্য রচয়িতারা যতো কথাই বলুন, তারাও ভালো জানেন এমন জনপ্রিয়তা আর এমন ভালোবাসা পদ্মাপারে কেউ পাননি। মধ্যবিত্তের জীবন্ত জীবনকাহিনির ভেতর দিয়ে উঠে আসা তিনি আমাদেরকে একের পর এক মোহে জড়িয়ে হয়ে উঠেছিলেন একাধিপতি। বৈচিত্রময় মানুষটিকে অনেকেই তার লেখার চাইতে ব্যক্তিজীবন দিয়ে বিচার করতে চান। এ আমাদের জাতীয় স্বভাব। কে কাকে বিয়ে করবেন বা করবেন না সেটা পাঠক বা গুণগ্রাহীর বিচারের আওতায় পড়ে না। তারপরও এতো জনপ্রিয় মানুষের জীবন অনালোচিত থাকতে পারে না। থাকেওনি। দ্বিতীয়বার বিয়ে করার কারণে যারা তাকে গালমন্দ করেন তাদের সাথে তার পার্থক্য এখন প্রকট। সামাজিক মিডিয়ার #মি-টু বা নানা কাহিনিতে প্রকাশ্য বিখ্যাতজনদের সাথে মিলিবে দেখুন। আর যাই করুক নিজেকে খেলো বা সস্তা করেননি কোনোকালে।

যাদুর কাঠি ছিলো গদ্যে। পদ্মাপারে আমাদের হাতে হাতে যখন ওপার বাংলার লেখকদের বই, যে কোনো আয়োজন বা অনুষ্ঠানে এদের বই ছিলো আমাদের উপহার দেয়ার সামগ্রী, সে জায়গাটা তিনি ভেঙে দিয়েছিলেন। বিশেষত নতুন প্রজন্ম নামে পরিচিতজনদের হাতে হাতে উঠে আসা তিনি ছিলেন এক বিপ্লব। শুধু কি তাই? আমাদের টিভি নাটককে তিনি এমন এক স্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন, যা ডিঙানো এখন অসম্ভব। বাংলা টিভি নাটক বা সিরিয়ালের ক্রান্তিকালে আজ আমরা পেছনে তাকালে দেখবো কেমন এবং কতোটা গগনচুম্বি ছিলো সে প্রিয়তা। এমন কোনো নাটক উভয় বাংলায় আর হয়েছে কিনা জানি না যার মূল চরিত্রের ফাঁসি হবে কিনা হবে তা নীরবে উত্তাল হয়ে উঠেছিলো স্বদেশ। তিনি কোনো সমাজসংস্কারক ছিলেন না বটে তবে, তিনিই সেই মানুষ যার কল্যাণে আজো আমরা রাজাকরদের ‘তুই রাজাকার’ বলি। এই কাজটি কোনো রাজনীতিবিদও করে দেখাতে পারেননি।

বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি আমরা। প্রজন্ম থকে প্রজন্মে তার আবেদন বা জনপ্রিয়তা না কমলেও আমাদের সমাজ বড় বিচিত্র। তাই মনেপ্রাণে চাই কথাসাহিত্যের জাদুকর বহুমুখী এই মানুষটিকে যেন বাংলাদেশ বুকে ধারণ করে রাখে। তার নামের অর্থও ভাগ্যবান। শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত