প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়া কি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন?

ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আদালত বেগম খালেদা জিয়ার দশ বছরের যে কারাদ-ের আদেশ দিয়েছেন, সেটা তার নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্যতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। সেখানে (ঘ) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছর কারাদ-ে দ-িত হলে এবং মুক্তিলাভের পর ৫ বছর অতিবাহিত না হলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের উপযুক্ত হবেন না।

এখন আইন বলছে, নির্বাচনে অংশ নেয়ার অযোগ্যতাটি কার্যকর হবে তখনই, যখন কারো বিরুদ্ধে সাজার চূড়ান্ত রায়টি আপিল আদালতে ঘোষণা করা হবে। অথবা যখন কেউ আপিল করার নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আপিল ফাইল না করবে। এই একই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিলো, এইচ এম এরশাদ যখন জনতা টাওয়ার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। বিচারিক আদালতে তার ৭ বছরের কারাদ- হয়। এরশাদ তখন নির্বাচিত সংসদ সদস্য। কিন্তু যেহেতু তার মামলাটি আপিল আদালতে বিচারাধীন ছিলো, তাই তিনি তার পুরো মেয়াদ এমপি হিসাবে বহাল থাকলেন। এমনকি পরের নির্বাচনেও অংশ নিলেন। তখন এটি নিয়ে কোন আপত্তি ওঠেনি, পরের নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হলেন। এরপর ২০০০ সালের ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ তার আপিল খারিজ করে দিলে ৩০ আগস্ট নির্বাচন কমিশন তার আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।

ইতোমধ্যে এরশাদ লিভ পিটিশন করেন। বিচারপতি জয়নাল আবেদিন এবং বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিভক্ত রায় দেন। দেশের বিভিন্ন পূর্ববর্তী মামলার রেফারেন্স দিয়ে বিচারপতি জয়নাল আবেদিন বলেন, আপিল বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশনের সিদ্ধান্তের আগে পর্যন্ত তাকে দোষী অভিহিত করা যায় না। আর বিচারপতি খায়রুল হক ভারতের আদালতের রেফারেন্স টেনে বলেন, বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই সেটাকে কার্যকর ধরা উচিত। তবে আমাদের মতে, বিচারিক আদালতের রায়, এমনকি সেটা যদি আপিল আদালতও নিশ্চিত করেন, তারপরও সেটা নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে একজন প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে কেবল তখনই, যখন আপিলেট ডিভিশন থেকে চূড়ান্ত রায়টি আসবে। লেখক : সিনিয়র কাউন্সেল, জুরিস্ট চেম্বার। মূল ইংরেজি লেখা থেকে অনূদিত ও সংক্ষেপিত। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব