প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশে রাজনীতির নতুন ধারা

মাসুদা ভাট্টি : মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের রাজনীতি এতোটা ‘সুপথে’ আসবে, সেটা হয়তো কেউই ভাবতে পারেননি। ভাবতে পারেননি কারণ বাংলাদেশে অতীতে কোনো সরকার পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করে একটি সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার ব্যাপারে সফলতা অর্জন করতে পারেনি। তত্ত্বাবধায়ক পদ্ধতি থাকার সময়ে ২০০১ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিচারপতি লতিফুর রহমানের হাতে ক্ষমতা দিয়ে বে-সরকার হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত পার হতে না হতেই বিচারপতি রাষ্ট্র ও রাজনীতির প্রতি অবিচার শুরু করেন। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক একটি সরকার ক্ষমতায় আসে এবং দেশে আজ যে রাজনৈতিক সংকট তার স্থায়ীত্বে ভূমিকা রাখে।

২০১৩ সালের শেষদিকে এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম জিয়াকে ফোন করে আবেদন জানায় একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের জন্য। প্রত্যাখ্যাত হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধ্যকতার নির্বাচন করে।

যার অন্তে আবার একটি সর্বজনীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে, এমনটি কল্পনাতেও না আনার মতো মানুষ অনেকেই আছেন। কারণ, আওয়ামী লীগের যারা সমালোচক; তারা মূলতঃ শেখ হাসিনার সরকারকে ‘কর্তৃত্ববাদী সরকার’ বা ‘স্বৈরাচারী-গণতন্ত্র’ ইত্যাদি কঠোর ভাষা প্রয়োগেই সমালোচনা করে থাকেন। তারা এটা ভাবতেও পারেননি যে, শেখ হাসিনা আলোচনায় সম্মত হবেন কিংবা একটি নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হবে দেশে।

তারা ভেবেছেন যে, শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের দ্বারা পরিচালিত কিন্তু নেতৃত্বে ড. কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্ট দেশব্যাপী আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারকে ফেলে দেবে। তারা নির্বাচনে জেতার প্রতিশ্রুতি পেয়েই সবকিছু ‘নতুন’ করার পর একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাবেন। কিন্তু সেটি না হয়ে সকল পক্ষই নির্বাচনে আসছে এবং সরকার সকল পক্ষেরই দাবি দাওয়ার কিছু না কিছু মেনে নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকে এগুচ্ছে। ফলে এখন আর শেখ হাসিনাকে ‘কর্তৃত্ববাদী শাসক’ কিংবা ‘স্বৈরাচারী শাসক’ বলার মতো সুযোগ আর থাকলো কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে।

নভেম্বরের প্রথম দশদিনেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা যে আওয়ামী লীগেরই, সে কথা সকল পক্ষকে স্বীকার করতেই হবে। একটি রাজনৈতিক দল কতোটা গণতান্ত্রিক তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে অন্য দলগুলোকে দলটি কতোটা ‘স্পেস’ বা সুযোগ দিচ্ছে তার ওপর। আমরা বরাবরই দেখেছি যে, আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে কেবল উদারই নয়, বরং উদাহরণ সৃষ্টিকারী। নাহলে ৭৫-এর খুনিদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত এবং যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গঠনকারী রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোনোভাবেই খাপ খায় না। অনেকেই বলতে পারেন যে, এটাই দেশের বাস্তবতা, একটি পক্ষ আওয়ামী লীগ আর আরেকটি আওয়ামী-বিরোধী। কিন্তু সে হিসেব কষলে নিজের শত্রুকে কি কেউ কখনো রাজনীতিতে সুযোগ দেয়?

পৃথিবীর কোনো দেশে কি এরকমটি ঘটে কখনো? বাংলাদেশে ঘটেছে এবং তা আওয়ামী লীগের হাত দিয়েই। এটা যেমন বিস্ময়কর, তেমনই প্রশংসনীয়। দ্য ইকোনমিস্ট নামের পত্রিকাটিকে কেউ আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার বন্ধু বলে মনে করেন না। তারা বহুবার বহু উপলক্ষে কোনো রকম দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই শেখ হাসিনাকে আক্রমণ করে প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে। কিন্তু এবারই তারা কেবল শেখ হাসিনার সরকারের প্রশংসা না করলেও নিন্দা করেছে, তা বলা যাবে না। এর মূল কারণ শেখ হাসিনা ও তার দল দেশের রাজনৈতিক ধারাকে বদলে দিয়েছে। নতুন রাজনীতির ধারায় জ্বালাও-পোড়াও-হরতাল নেই; আছে সুষ্ঠু, স্বাভাবিক আলোচনা-সমালোচনা ও নির্বাচনের প্রচারণা।

এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনটি কতোটা সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে পারে নির্বাচন কমিশন। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক। এর পরবর্তী সরকার হবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য একটি সরকার। দেখাই যাক। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ