প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে ঘোড়ায় নাদিলো।’

অসীম সাহা : ‘অবশেষে ঘোড়ায় নাদিলো।’ কিন্তু নাদবার আগে কতো কিসিমের কেরামতি যে দেখালো, তাতে ঘোড়ার মালিক যেমন, তেমনি আশপাশের লোক, এমনকি সারাদেশের লোক একেবারে হেসে কুটি কুটি, দাঁত উঠি উঠি এবং ফুল ফুটি ফুটি করতে লাগলো। কিন্তু ঘোড়া যখন একবার উন্মাদ হয়ে ওঠে, তখন অন্যদের কেরামতি তো ঘোড়ার কাছে নস্যি! তাকে থামানো কি চাট্টিখানি কথা? অন্যরা যখন ঘোড়ার পেছনে ত্রাহি ত্রাহি রবে ছুটতে লাগলো, তখন পাগলা ঘোড়া হ্রেস্বারব তুলে, পুচ্ছ সজোরে নাচিয়ে এবং দুপা উচ্চে উঠিয়ে এমন লাথি মারতে উদ্ধত হলো যে, রাজসিংহাসনে যিনি রানির বেশে বসে আছেন, তার তো যায় যায় দশা! কিন্তু বাপের বেটি শেখ হাসিনা বলে কথা! যার দেহে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর রক্ত প্রবাহিত, তাকে কি অতো সহজে কুপোকাৎ করা সম্ভব? বরং তিনিই উল্টো ঘোড়াকে শুধু নয়, ঘোড়ার দলকে এমন কষে লাথি মারলেন যে তার কৌশলের কাছে পরাভূত হয়ে এখন নাকে খৎ দিয়ে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলেন। ‘ঠেলার নাম বাবাজি’ বলে কথা।

২০+৪=২৪ দল মিলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে তথাকথিত নিরপেক্ষ নির্বাচন করেই ফেলবেন বলে যারা নিশ্চিত হয়ে গিয়ে বগল বাজাচ্ছিলেন, তারাই এখন ধরাশায়ী হয়ে কোনো সমাধান না পেয়ে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ছাড়াই নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন! তাই বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না, হাসিনার রাজনৈতিক ক্যারিশমার কাছে জাতীয় যুক্তফ্রন্টের সবগুলোই নাদান বাচ্চা!

শেখ হাসিনা সংলাপে বসলেন, ১৭ রকমের ব্যঞ্জন দিয়ে ডিনার করালেন, তারপর ৭ দফার এক দফাও না মেনে সকলকে মুখব্যঞ্জনসহ ফেরত পাঠালেন। তাতে কার জয় হলো? শেখ হাসিনার না যুক্তফ্রন্টের? এবার যুক্তফ্রন্টের মুখে আর ৭ দফার কথা বেশি শোনা যাচ্ছে না! শোনা যাচ্ছে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান্তরাল খেলার মাঠের কথা। এই এক আজব ‘চিজের’ আমদানি হয়েছে বহুদিন ধরে। কিছু হলেই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বলে চিৎকার করা। কেন, হাসিনা কেন পাকিস্তানি আদর্শের অনুসারীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে দেবেন? যারা ’৭১-এ আমাদের ৩০লক্ষ সাধারণ মানুষ ও ২লক্ষ মাবোনের ইজ্জতহরণকারীদের কোলে বসিয়ে জাতির পিতার সন্তানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চেয়েছেন, তাদের জন্যে তিনি কেন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে দেবেন? এটা কি মামাবাড়ির আবদার নাকি?

তারা যে এখনো বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারছেন, ক্ষমতায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দিয়ে এদেশকে কলংকিত করেছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার না করে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে খুনিদের দায়মুক্তি দিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ১৯বার গ্রেনেড হামলাসহ নানাভাবে খুন করার চেষ্টা করেছেন, তাদের যেখানে তাদের শাস্তি হওয়া দরকার, সেখানে তাদের সঙ্গে তিনি যে সংলাপে বসতে রাজি হয়েছেন, সেটাই কি যথেষ্ট নয়? তার ওপর তারা আবার নির্বাচনের জন্য সমান্তরাল মাঠ চান? ন্যূনতম লজ্জাবোধ থাকলে এ-দাবি করার আগে তাদের মুখ স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু নির্লজ্জদের এই একটা সুবিধা, তারা নগ্ন হয়ে সকলের সামনে দিয়ে শুধু মুখ দেখিয়ে নয়, সারা শরীর দেখিয়েও হাঁটতে পারেন! যখন দেখি, সংবিধান-রচয়িতাদের অন্যতম প্রধান বঙ্গবন্ধুর প্রীতিধন্য ড. কামাল হোসেন; আর বঙ্গবন্ধুর পুত্রতুল্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও শুধু সামান্য স্বার্থের জন্য ‘গণতন্ত্র উদ্ধারের’ নামে গণতন্ত্র হত্যাকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শেখ হাসিনাকে ‘২মিনিট’-এর মধ্যে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে ফেলার হুমকি দেন, তখন তারও নগ্ন চেহারাটি চোখের সামনে ভেসে ওঠে এবং বুকে দুঃসহ জ্বালা অনুভব করি! রাজনীতি কি এমনি? একমুহূর্তেই একটি মানুষকে অমানুষে পরিণত করে ফেলতে পারে? তা হলে সেই রাজনীতিকে ধিক্কার দেয়া ছাড়া আর কী করা যেতে পারে? এ-মুহূর্তে রাজনীতি নিয়ে কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের একটি পংক্তি মনে পড়ছে : “শিশুকেও মাতৃক্রোড়ে হত্যা করে বধ্য রাজনীতি/এও কি মানুষ করে?” ধিক্ এই রাজনীতিকে!

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ