প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কূটনীতিকদের অসন্তোষের কথা জানাল বিএনপি

সমকাল : একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের কাছে নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছে বিএনপি। তাদের অভিযোগ, খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার কোনোটিই মেনে নেয়নি সরকার। তারপরও গণতন্ত্রের স্বার্থে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত সব রাজনৈতিক দলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। সারাদেশে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এখনও।

রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির নেতারা। বিকেল ৪টা থেকে দেড় ঘণ্টার এ বৈঠকে জানানো হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পরও প্রায় এক হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, পাকিস্তান, নরওয়ে, অস্ট্রেলিয়া, স্পেন, জাপান, মরক্কো, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৩২টি দেশ, অঞ্চল ও সংস্থার কূটনীতিকরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বৈঠক নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক পাঠানোর বিষয়ে কূটনীতিকদের অনুরোধ জানানো হয়।

এ বিষয়ে ইইউ ও অন্য কয়েকটি দেশের কূটনীতিকরা বলেন, ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন। একে ঘিরে সপ্তাহব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কাটাবে বিভিন্ন দেশ। তাই নির্বাচনের তফসিল আরও পেছানো হলে পর্যবেক্ষক পাঠানোর ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দেবেন তারা।

গত রোববার বিএনপি, তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর এটিই কূটনীতিকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠক বিএনপির।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকার পরও তাকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে, যা বেআইনি বলে কূটনীতিকদের জানান বিএনপি নেতারা। এ সময় বেশ কয়েকজন কূটনীতিক নানা বিষয়ে বিএনপি নেতাদের কাছে জানতে চান।

একটি দেশের কূটনীতিক বিএনপির গঠনতন্ত্রের একটি ধারার ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির এক নেতা বলেন, দলের নিজস্ব গঠনতন্ত্রের ব্যাপারে আদালতের হস্তক্ষেপের ঘটনা নজিরবিহীন। বিএনপির গঠনতন্ত্র দলের সব নেতার মতামত নিয়েই সংশোধন করা হয়েছে, যা যথাসময়েই ইসির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আদালত বা ইসির হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার নেই। এটি সম্পূর্ণ দলের নিজস্ব ব্যাপার।

এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ নেই- এমন অবস্থা থাকলে ভোটে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বিএনপি বলেও কূটনীতিকদের জানান নেতারা। এ ছাড়া লিখিত বক্তব্যে সংলাপ, খালেদা জিয়ার মামলা, গায়েবি মামলা, নেতাকর্মীদের গ্রেফতারসহ নানা বিষয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করে দলটি।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কতটুকু আশাবাদী বিএনপি- একজন কূটনীতিকের এমন প্রশ্নে দলের নেতারা জানান, আইন যদি তার নিজস্ব গতিতে চলতে পারে, তাহলে তারা শতভাগ আশাবাদী। তবে তা বিঘ্নিত করা হলে জটিলতায় পড়তে পারে।

নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন মনে করছেন কি-না এমন প্রশ্নে বিএনপি বলেছে, তফসিল পেছানোর জন্য বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আবেদনে সাড়া না দিয়ে ইসি শুধু সরকারি দলের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতেও কোনো কার্যকর ভূমিকা নেয়নি ইসি।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরীন মুন্নি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কেন্দ্রীয় নেতা তাবিথ আউয়াল ও ব্যারিস্টার মীর হেলাল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ