প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর বাসস্ট্যান্ড ও বাঁশের হাট

ডেস্ক রিপোর্ট : বাঘাবাড়ী টু টেবুনিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে পাবনার ফরিদপুর পৌর শহরের বাইপাস সড়কের ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড। এ ছাড়া তিন বছর ধরে ব্যস্ততম এ সড়কের ওপর বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে প্রতি মঙ্গল ও শুক্রবার বসানো হয় বাঁশের হাট। ফলে এ সড়কে আধাকিলোমিটারজুড়ে যানজট যেমন লেগে থাকে, তেমনি মাঝেমধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ পথে চলাচলকারী শিক্ষার্থী ও পথচারীদের। ফরিদপুর পৌর কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার সড়কের ওপর থেকে বাসস্ট্যান্ড ও বাঁশের হাট সরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে পৌর শহরের ভেতরে থানাপাড়া এলাকায় একমাত্র কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড থাকলেও নানা কারণে সেটি পুরোপুরি ব্যবহৃত হচ্ছে না। এখান থেকে দিনে শুধু পাবনা ও রাজশাহীগামী ছয়-সাতটি বাস চলাচল করে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঘাবাড়ী টু টেবুনিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে পাবনার ফরিদপুর পৌর শহরের বাইপাস সড়কে খলিশাদহ বাজার কলেজ মোড় থেকে রুলদহ বাজার পর্যন্ত প্রায় আধাকিলোমিটার সড়কের ওপর শাহজাদপুর ট্রাভেলসের পাঁচটি কোচগাড়ি ও চারটি মিনিবাস পার্ক করে রাখা আছে। সড়কের ওপরই গাড়িগুলো ধোয়ামোছার কাজ হয়। বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে প্রায় ২০০ গজ সড়কের ওপর বাঁশের হাট বসেছে। এতে রাস্তায় চলাচলকারী অন্যান্য গাড়ি ও পথচারীরা খুবই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ১৩-১৪ বছর আগে রুলদহ বাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর অস্থায়ীভাবে লোকাল বাসস্ট্যান্ড গড়ে তোলে। এর দু-তিন বছর পর মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন বাসস্ট্যান্ডের জন্য এ সড়কের পাশে আব্দুল করিম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১০ কাঠা জমি ভাড়া নেয়। কিন্তু ওই স্থানে সর্বোচ্চ পাঁচ-ছয়টি বাস রাখা যেত। ফলে বাকি বাসগুলো সড়কের ওপরই রাখা হতো। এর তিন বছর পর ওই জমির মালিক জমিটি অন্যত্র বিক্রি করে দেন। বর্তমানে ক্রেতারা সেই জমি ব্যবহার করছে। এখন ওই এলাকায় লোকাল বাসস্ট্যান্ডের জন্য আর কোনো জমি নেই। তাই ফরিদপুর উপজেলা থেকে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় চলাচলকারী বেশির ভাগ বাস পার্ক করতে এ সড়কের খলিশাদহ বাজার থেকে রুলদহ বাজার পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে তিন মাস ধরে ঢাকা টু চাটমোহর রুটে চলাচলকারী শাহজাদপুর ট্রাভেলসের এক ডজন কোচগাড়িও এখানে পার্ক করা হয়। ফরিদপুর থেকে চাটমোহর পর্যন্ত সড়ক খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এখন ঢাকা থেকে ফরিদপুরই তাদের শেষ গন্তব্যস্থল বলে জানায় শাহজাদপুর ট্রাভেলসের টিকিট কাউন্টারে কর্মরতরা।

উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে নির্ধারিত জায়গায় বাসস্ট্যান্ডের জন্য একাধিকবার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বাস পার্কের জন্য নির্ধারিত জায়গা বা টার্মিনাল দেওয়া হলে সড়ক থেকে বাস সরিয়ে ফেলা হবে।

ফরিদপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম মন্টু বলেন, ‘পৌর বাস টার্মিনাল করার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। বিষয়টি নিয়ে উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তবু কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি।’

এ ব্যাপারে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সড়কে যানবাহন পার্ক করা ও বাঁশের হাট বসার কারণে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে, সেটা আমরা জানি। তাই এ সমস্যা দূর করতে কয়েকবার পৌর কার্যালয় থেকে নির্ধারিত জায়গায় বাসস্ট্যান্ড ও বাঁশের হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আর্থিক সংকট ও প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় সেটা সম্ভব হয়নি।’

ফরিদপুরের ইউএনও আহম্মদ আলী বলেন, ‘আমি কয়েক দিন আগে এ উপজেলায় যোগ দিয়েছি। বিষয়টি জেনে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে পাবনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ রায় বলেন, ‘সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং ও বাঁশের হাট বসানো অবৈধ। যেকোনো সময় ওই এলাকায় গিয়ে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড ও বাঁশের হাট উচ্ছেদ করা হবে।’
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ