প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসন হারানোর শঙ্কায় জাপা

ডেস্ক রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের কাছে ৭৬ আসন চেয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। কিন্তু ২০ থেকে ২৫টির বেশি আসনে মহাজোটের মনোনয়নের নিশ্চয়তা পায়নি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন দলটি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২১টিসহ ৩৪টি আসনে জেতা জাপার বর্তমান এমপিদের অনেকেরই জোটের মনোনয়ন নিশ্চিত নয়। সব দলের অংশগ্রহণে আসন্ন নির্বাচনে আসন কমার শঙ্কায় রয়েছে দলটি।

জাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার সমকালকে জানান, আওয়ামী লীগের কাছে প্রথমে ১০৫টি আসনের তালিকা দেওয়া হয়েছিল। সবশেষ ৭৬টি আসনের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এ তালিকা ধরে আসন বণ্টন হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহানুভব ব্যক্তি। তিনি নিশ্চয় জাপাকে নিরাশ করবেন না। তার বিবেচনা অনুযায়ী সম্মানজনক সংখ্যক আসন দেবেন। জাপা সর্বনিম্ন কতটি আসন চায়? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি রুহুল আমিন হাওলাদার। প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন না পেলে জোট ভাঙবে কি-না সে কথাও বলতে রাজি নন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। জাতীয় পার্টির যতটি আসনে নির্বাচন করলে ভালো হবে, প্রধানমন্ত্রী তাদের ততটি আসন দেবেন বলে বিশ্বাস করেন রুহুল আমিন হাওলাদার।

জাপা সূত্র জানায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট ভোটে আসায় জাপার আসন প্রাপ্তির সম্ভাবনা কমেছে। জাপাকে ২০ থেকে ২৫টির বেশি আসনে ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। কারণ জাপার আগের সেই ভোটব্যাংক নেই। এরশাদের দুর্গখ্যাত রংপুরেও তাদের আগের অবস্থান নেই।

বৃহত্তর রংপুরের ২১টি আসনের সাতটি এখন জাপার দখলে। এ ছাড়াও গাইবান্ধা-২, গাইবান্ধা-৩, গাইবান্ধা-৫, লালমনিরহাট-৩, রংপুর-২, রংপুর-৪ এবং রংপুর-৫ আসনে জোটের মনোনয়ন পেলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করেন দলটির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপি। তিনি সমকালকে জানান, এককভাবে ভোট করলে এগুলোতে ভালো করা কঠিন। ঢাকার এই নেতা বলেন, এবার আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হওয়ার সুযোগ নেই।

ভোট করে জিততে হবে।

গত নির্বাচনে জাপা জামালপুর-৪, ময়মনসিংহ-৫, ময়মনসিংহ-৭, ময়মনসিংহ-৮, কুমিল্লা-২, কুমিল্লা-৮, লক্ষ্মীপুর-২, কক্সবাজার-১, বগুড়া-২, বগুড়া-৩, বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, ঢাকা-৪, ঢাকা-৬, চট্টগ্রাম-৯, পটুয়াখালী-১-এর মতো আসনেও জয়ী হয়। যেসব আসনে ১৯৮৮ সালের একতরফা নির্বাচনের পর কখনোই জয়ী হতে পারেনি জাপা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলেও এসব আসনে জাপার অবস্থান সবল নয়।

বগুড়ার চারটি বাদে বাকি ১২টি আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান শক্তিশালী। এ আসনগুলোয় আগামী নির্বাচনে ছাড় দেওয়া হবে না; এরই মধ্যে জাপা নেতারা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে এ বার্তা পেয়েছেন। জাপার একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপি সমকালকে রোববার রাতে বলেন, এসব আসনে তাদের সংগঠন নেই, ভোট নেই। তাই এবার আসনে ছাড় পাওয়ার আশা কম। বগুড়ার চারটি আসন বিএনপি অধ্যুষিত। তাই সেখানে জোটের মনোনয়ন পেলেও জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে বৃহত্তর রংপুরে বর্তমানে দখলে রয়েছে সাতটি আসন।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে যথাক্রমে ৩৫ ও ৩২টি আসন পায় জাপা। ২০০১ সালে পায় ১৪টি আসন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে জয়ী হয় ২৯টি আসনে। সেবার জাপা ৪৯ আসনে ভোটে লড়ে। এর মধ্যে ৩১টিতে আওয়ামী লীগের সমর্থন পায়। বাকি ১৮টিতে ছিল নৌকার প্রার্থী। এই ১৮ আসনের ১৭টিতেই জামানত হারান জাপার প্রার্থীরা।

বিএনপিবিহীন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৮৫ আসনে প্রার্থী ছিল জাপার। তবে শুধু ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগকে হারাতে পেরেছিল। সেবার ৪৮টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল না। কিন্তু এগুলোর ১৪টিতেই স্বতন্ত্র, জাসদ, জেপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গে হেরে যায় জাপা।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ‘ভালো’ ফল করে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসলেও উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি নির্বাচনেও জাপার ভরাডুবি হয়। ৪৯১ উপজেলার মাত্র দুটিতে তাদের প্রার্থী জয়ী হয়। ৩৩০ পৌরসভার একটিতে মেয়র পদে জেতে জাপা। ইউনিয়ন পরিষদে জাপার পাওয়া ভোটের পরিমাণ ছিল শূন্য দশমিক ৪৯ শতাংশ। রংপুর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে জিতলেও খুলনা, ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রামে প্রদত্ত ভোটের এক শতাংশও তারা পায়নি।

ভোটের মাঠে অবস্থান দুর্বল হলেও জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের গতকাল রোববার বনানীতে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদিকদের জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কাছে ১০০ আসনের তালিকা দিয়েছেন তারা। এ তালিকা ধরে দরকষাকষি হবে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছে তিনি শুনেছেন জোটের শরিকদের আওয়ামী লীগ ৭০টি আসন দিতে চায়। এর মধ্যে জাপা কয়টি আসন পাবে, তা দুই দলের নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় চূড়ান্ত হবে।

জাপা সূত্র জানায়, রংপুরের সাতটি আসনে জাপার জোটের মনোনয়ন পাওয়া নিশ্চিত। বগুড়ার আসনগুলোও পাবে। এর বাইরে রওশন এরশাদের ময়মনসিংহ-৪, আনিসুল ইসলাম মাহমুদের চট্টগ্রাম-৫, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর চট্টগ্রাম-৯, রুহুল আমিন হাওলাদারে জন্য বরিশাল-৬ অথবা পটুয়াখালী-১, মুজিবুল হক চুন্নুর কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে জোটের মনোনয়ন পাওয়া নিশ্চিত। এরশাদ ঢাকা-১৭ আসনে মনোনয়ন পাবেন কি-না তাও এখনও চূড়ান্ত নয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ