প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জামায়াতও ৩৫ আসনের কমে মানতে নারাজ

ডেস্ক রিপোর্ট : নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয় পরিচয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই জামায়াতে ইসলামীর। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শীর্ষ নেতারা দণ্ডিত হওয়ায় নেই হেভিওয়েট প্রার্থীও। দলের বহু নেতা আত্মগোপনে। ঢাকার কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা কার্যালয়গুলোও বন্ধ। এ রকম কোণঠাসা জামায়াতও আসন পেতে জোরালো দরকষাকষি করছে। তাদের দাবি, ৩৫টি আসনে জামায়াতকে জোটের মনোনয়ন দিতেই হবে।

আসন্ন একাদশ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল জোটবদ্ধ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০ দলের সব শরিক বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোটে অংশ নেবে। ব্যতিক্রম জামায়াত। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয় প্রতীক দাড়িপাল্লা নিয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকায় জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। গতকাল পর্যন্ত অন্তত ১৬টি আসনে জামায়াত নেতারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে উৎসবের আমেজ। দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলছে। গতকাল সোমবার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় বিপরীত চিত্র। প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। ফটকের বাইরে খাকি পোশাকধারী দু’জন পাহারাদার ছাড়া আর কেউ নেই। তারা জানালেন, নেতারা কেউ গত সাত বছরে আসেননি এ কার্যালয়ে। তবে সপ্তাহে দু-একবার পুলিশ এসে খোঁজখবর নিয়ে যায়।

দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম অভিযোগ করেছেন, সরকার তাদের ভোটের উৎসব থেকে বঞ্চিত করছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলতে দিচ্ছে না। যাকে যেখানে পাচ্ছে, গ্রেফতার করছে। তাই তারা দলীয় মনোনয়ন ফরম দিতে পারছেন না। জেলা ও মহানগর শাখাগুলো প্রার্থী ঠিক করছে। কেন্দ্রের অনুমোদনের পর তারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন।

প্রকাশ্যে রাজনীতিতে উপস্থিতি না থাকলেও আসন্ন নির্বাচনে জোটের কাছে জামায়াতের দাবিনামা বেশ দীর্ঘ। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি আসনে ভোটে লড়েছিল জামায়াত। একটিতে শেষ সময়ে বিএনপিকে সমর্থন দেয়। ৩৩টিতে বিএনপির প্রার্থী ছিল না। জামায়াতের প্রার্থীরা ছিলেন বিএনপি জোটের প্রার্থী। বাকি পাঁচ আসনে বিএনপি ও জামায়াত- দুই দলেরই প্রার্থী ছিল। ২০০১ সালে ৩১টি আসনে লড়েছিল জামায়াত। ৩০টিতে জোটের সমর্থন পেয়েছিল।

গতবার ৩৩ আসনে জোটের মনোনয়ন পেলেও আসন্ন নির্বাচনে অন্তত ৩৫ আসনের দাবি জামায়াতের। জরিপের তথ্য তুলে ধরে দলটির এক নেতা দাবি করেন, আটটি আসনে তাদের এককভাবে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। ৩২টি আসনেও কমবেশি সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে মনোনয়ন পেলে জয়ী হতে পারবে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এহসানুল মাহবুব জোবায়ের সমকালকে বলেছেন, অন্তত ৫০টি আসনে ভোটে লড়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে তাদের।

কিন্তু জোটের শরিক হিসেবে তারা ছাড় দিতে প্রস্তুত। ২০০৮ সালে জামায়াত যেসব আসনে নির্বাচন করেছিল, তা কাটছাঁট করে চূড়ান্ত তালিকা করা হচ্ছে। যেসব আসনে জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন, সেখানে বিএনপি প্রার্থী দেবে না। ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার আগেই আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হবে।

জামায়াতের দাবি অনুযায়ী, এককভাবে জয়ী হওয়ার মতো আটটি আসন ও তাতে প্রার্থীরা হলেন- গাইবান্ধা-১, মাজেদুর রহমান; নীলফামারী-২, মনিরুজ্জামান মন্টু; সাতক্ষীরা-১, অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ; সাতক্ষীরা-৩, মুফতি রবিউল বাশার; সাতক্ষীরা-৪, গাজী নজরুল ইসলাম; কুমিল্লা-১১, ডা. সৈয়দ আবদুল্লা মো. তাহের; চট্টগ্রাম-১৫, আ ন ম শামসুল ইসলাম অথবা শাহজাহান চৌধুরী এবং কক্সবাজার-২, হামিদুর রহমান আযাদ। চট্টগ্রাম-১৫ আসন নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে সাবেক দুই এমপি শামসুল ইসলাম ও শাহজাহান চৌধুরীর মধ্যে।

দলের নির্বাচন সমন্বয় কমিটির একজন দায়িত্বশীল নেতা সমকালকে জানিয়েছেন, গতবার জামায়াত যে ৩৮ আসনে নির্বাচন করছিল, তার মধ্যে শেরপুর-১, রংপুর-১ ও ২, ফরিদপুর-৩ আসনে এবার তারা ভোট করতে আগ্রহী নন। ২০০১ ও ২০০৮ সালে শেরপুর-১ আসনে জোটের প্রার্থী ছিলেন জামায়াতের মুহাম্মদ কামারুজ্জামান। ফরিদপুর-৩ আসনে প্রার্থী ছিলেন আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার ফাঁসি হয়েছে।

সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াতের দুবারের এমপি আবদুল খালেক মণ্ডল একই অভিযোগে কারাগারে। বিকল্প প্রার্থী না থাকায় জামায়াত এবার পরিবর্তে সাতক্ষীরা-১ আসন চায়। মেহেরপুর-১ আসনের ছমিরউদ্দিন বিদেশে। এ আসনও চাইবে না জামায়াত। গতবার জোটের মনোনয়ন পাওয়া ৩৩ আসনের বাকি ২৯টি এবারও চায় জামায়াত। এর বাইরে নতুন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-১, চট্টগ্রাম-১৬, কক্সবাজার-৩ আসনে জোটের মনোনয়ন পেতে মরিয়া জামায়াত। সব মিলিয়ে ৪০টি আসন বাছাই করেছেন তারা। জোটের স্বার্থে সেখান থেকে পাঁচটিতে ছাড় দিতে রাজি। এর কমে মানতে নারাজ। রাজশাহী-১ আসনে প্রার্থী হবেন দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান। ঢাকা-১৫ আসনে প্রার্থী হবেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। এ দুটি আসনেও জোটের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে জামায়াত মরিয়া।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পিরোজপুর-১ আসনে প্রার্থী হবেন তার ছেলে শামীম সাঈদী। পিরোজপুর-২ আসনে প্রার্থী হতে চান সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদী। তিনি সমকালকে জানিয়েছেন, দুটি আসনেই জোটের মনোনয়নের দাবিদার তারা।

আরও যে আসনগুলোতে জামায়াত জোটের মনোনয়ন পেতে মরিয়া সেগুলো হলো- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, নুরুল ইসলাম বুলবুল; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, মো. লতিফুর রহমান; রাজশাহী-১, মুজিবুর রহমান; সিরাজগঞ্জ-৪, আলী আলম; সিরাজগঞ্জ-৫, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান; পাবনা-১, আবদুর রহিম; পাবনা-৫, ইকবাল হুসাইন; ঠাকুরগাঁও-২, আবদুল হাকিম; দিনাজপুর-১, মোহাম্মদ হানিফ; দিনাজপুর-৬, আনয়ারুল ইসলাম; নীলফামারী-২, মনিরুজ্জামান মন্টু; রংপুর-৫, গোলাম রাব্বানী; কুড়িগ্রাম-৪, নূর আলম মুকু; গাইবান্ধা-১, মাজেদুর রহমান; গাইবান্ধা-৪, আবদুর রহিম সরকার; চুয়াডাঙ্গা-১, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান; ঝিনাইদহ-৩, মতিয়ার রহমান; যশোর-১, আজিজুর রহমান; যশোর-২, আবু সাইদ মুহাম্মদ সাদাত হোসাইন; বাগেরহাট-৪, শহীদুল ইসলাম; খুলনা-৫, মিয়া গোলাম পরওয়ার; খুলনা-৬, শাহ মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুছ; সাতক্ষীরা-১, অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্লাহ; সিলেট-৫, ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী; সিলেট-৬, হাবিবুর রহমান; চট্টগ্রাম-১৬, জহিরুল ইসলাম এবং কক্সবাজার-৩, জি এম রহিম উল্লাহ।
সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত