প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদ নির্বাচন উৎসব-মুখরিত হোক

মিল্টন বিশ্বাস : ১১ নভেম্বর(২০১৮) ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। উপরন্তু তারা তফসিল এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করার আহ্বানও করেছেন নেতৃবৃন্দ। ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে আওয়ামী লীগের নেতৃবর্গ অভিনন্দন জানিয়েছেন। সব দলের অংশগ্রহণে উৎসব মুখরিত একটি নির্বাচনের প্রত্যাশা এখন আমাদের। যদিও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তকে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তারা তাদের সাত দফা দাবি থেকেও সরে যান নি। তাছাড়া ঐক্যফ্রন্ট সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আচরণের প্রতি কড়া নজর রাখার যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে তাও প্রশংসনীয়। আসলে দেশ এখন নির্বাচনের পথে হাঁটছে; হাঁটছে না বলে দৌড়াচ্ছে বলা যায়। সেখানে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চার পরিসর ব্যাপ্ত হয়েছে বলা চলে। কারণ নভেম্বরের ১ থেকে ৭ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যে সংলাপ হয়েছে তার ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মতাদর্শগত ভিন্নতা সত্ত্বেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করার মনোভাব তৈরি হয়েছে। সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপিসহ অনেকগুলো বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কেটেছে বলে মনে করেন তারা। লেখাবাহুল্য, নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন বাদ দিয়ে মোট ৩৯টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। এ ছাড়া, স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়া যাবে। গত ১০ বছরে শক্তিশালী কোনো বিরোধী দল না থাকায় দেশের সাধারণ মানুষকে দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলতে হয়েছে। এই কারণেই বিএনপির ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে প্রতিটি মানুষ আনন্দের সঙ্গে অভিনন্দিত করেছে।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার দায়িত্ব ‘নির্বাচন কমিশনে’র। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভিডিপি, আনসার, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড বাহিনীর সাথে সশস্ত্র বাহিনীকেও মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে সিইসি। ছয় লক্ষাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়ন রাখা হবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নির্বাচনে মোট আট দিন সেনাবাহিনী মোতায়ন থাকবে। নির্বাচনের আগের পাঁচ দিন, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরে আরো দুইদিন। সেনা মোতায়নে ঐক্যফ্রন্টের দাবি বলা চলে পূরণ হতে যাচ্ছে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের বাজেট ধরা হয়েছে ৭০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা, আর আইন-শৃঙ্খলা খাতে ব্যয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। এ দিকে, ইসির সর্বশেষ প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন। ভোটকেন্দ্র ৪১ হাজার ১৯৯টি। ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি। এতে সাত লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হচ্ছে। অন্যবারের মতো এবারও নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) নিয়োগ করা হয়েছে। আর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

লেখক : অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ  এবং পরিচালক, জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,

[email protected]

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ