প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তারকারা যখন দলীয় রাজনীতির আবর্তে

মঞ্জুরুল আলম পান্না: অনেক শঙ্কা, অনিশ্চয়তা আর নাটকীয় অনেক খেলার মধ্যেও রাজনীতিতে এই মুহূর্তে আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিতরণ এবং প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া। দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মীর মনোনয়নপত্র কেনা, দলীয় পুরোনো সংসদ সদস্যদের মধ্যে কারা বাদ যাচ্ছেন, মহাজোটের শরিকদের জন্য কতোটি আসন ছাড়া হচ্ছে, চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসাদের প্রাধান্য কতোটুকু থাকবে, তারকা প্রার্থীদের কে কার আগে এগিয়ে আছেন ইত্যাদি। এসবের মধ্য দিয়ে গত কয়েকদিন আলোচনার তুঙ্গে রয়েছেন দেশের ক্রিকেটের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তোজা। আলোচনায় থাকার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কোটি কোটি মানুষের প্রিয় একজন মানুষ যখন দলীয় আবর্তের মধ্যে চলে আসেন তখন তাকে নিয়ে অনেক ধরনের হিসেব-নিকেষ-আগ্রহ-কৌতুহলের জন্ম হয়।

প্রায় ছয় মাসের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মাশরাফি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র নিয়েছেন। রাজনীতিতে তার এই অভিষেককে অধিকাংশ মানুষই সহজভাবে নিতে পারেননি, বিপরীতে তাকে স্বাগত জানানো মানুষের সংখ্যাও কম নয়। দুনিয়াজুড়ে নামি-দামি খেলোয়ারসহ শোবিজ তারকা-শিল্পী-সাহিত্যিকদের সরাসরি রাজনীতি করার পরিসংখ্যান কম নয়। রাজনীতিতে তাদের মধ্যে সফল হওয়ার ইতিহাস রয়েছে হাতে গোনা দু-চার জনের ললাটে। স্বাভাবিকভাবে তারকা রাজনীতিকদের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে অনেক বেশি স্বচ্ছতা এবং পরিচ্ছন্নতার। কিন্তু এটা তো সত্য যে আমাদের রাজনীতিতে ভালো মানুষের মূল্যায়ন হয় খুব কম। যে কোনো তারকা শিল্পী কিংবা নিজ অবস্থানে থেকে অতি সফল একজন মানুষও যদি বিশেষ কোনো দলের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত হন তবে তাকে নোংরাভাবে বিতর্কিত করতে খুব বেশি সময় নেয় না বিরোধী পক্ষ। অথবা পছন্দের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের আদর্শকে কবর দিতে হয় দলের মতলববাজদের দ্বারা কোণঠাসা হয়ে। দলীয় আনুগত্য আর দালালিবিদ্যায় পারদর্শীদের কাছে তারা হয়ে ওঠেন অসহায়। এমন অবস্থায় তাই মাশরাফির মতো একজন লিজেন্ড সরাসরি রাজনীতিতে নামায় অনেক বেশি আহত হয়েছেন অনেকে। যারা স্বাগত জানিয়েছেন তাদের যুক্তি হলোÑ নীতিহীন রাজনীতির প্রতি শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের আকর্ষণ দিনদিন কমতে থাকায় সমাজে অন্ধকার আরও ঘণীভূত হচ্ছে। অতএব ভালো মানুষদেরকেই এখানে আবার ফিরে আসতে হবে বেশি বেশি। এই ধারণার যুক্তিও অকাট্য। কিন্তু ওই যে বললাম- এই মুহূর্ত আমাদের রাজনীতিতে চলছে গ্রহণের কাল। সেই গ্রহণ গিলে ফেলতে চায় সংখ্যায় কম থাকা ভালো মানুষগুলোকে।

একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, আমাদের শিল্পী-সাহিত্যিক-খেলোয়ারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকাদের আকর্ষণ বেশি থাকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতি।

আওয়ামী লীগও তাদের অনেককে কাছে টেনে নিয়েছে সম্মান জানিয়ে। দলটির এই মানসিকতার পেছনে কেবলমাত্র যদি মাশরাফির মতো ব্যক্তিত্ববান তারাকাদের ইমেজ কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে কয়েকটি আসন বেশি পাওয়ার মতো কৌশল কাজ করে তবে তাতে নিশ্চিতভাবে সমাজে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে না। ভালো মানুষকে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়ে তাদেরকে কেবল সংসদ সদস্য বানিয়ে রাখলে চলবে না, আনতে হবে দলের নীতিনির্ধারণী অবস্থানে। অপছন্দীয় কোনো সিদ্ধান্তের বিপক্ষে সংসদে ভোট দেয়ার মতো ক্ষমতা যেখানে একজন এমপির থাকে না, সে দেশের রাজনীতিতে মাশরাফিদের পক্ষে আর কতোখানিই বা অবদান রাখা সম্ভব? রয়েছে অনেক শঙ্কা, অনেক হতাশা। তবুও শুভ কামনা প্রিয় মাশরাফিদের জন্য। লেখক : সাংবাদিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত