প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘রাজনীতি এখন এমন জায়গায় যেখানে জনগণের ভূমিকা একেবারেই নগন্য’

সাজিয়া আক্তার : মানবাধীকারকর্মী এবং রাজনীতিবিদ সুলতানা কামাল বলেছেন, সংলাপে আওয়ামী লীগের নিজস্ব কিছু এজেন্ডা ছিলো, কাজেই যিনি বেশি শক্তিশালী তিনিই জিতেছেন। এটাই পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে সংলাপের ফলাফল হিসেবে।

যমুনা টেলিভিশনের রাজনীতি বিষয়ক টকশোতে তিনি আরো বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যে পার্থ্যক আছে। ২০১৪ সাল ছাড়া এর আগে সবগুলো নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছিলো। ‘১৪ সালে নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে সেটাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে পরিণত করেছিল। এতে নিজেরা বিপদে পড়লো এবং পুরো জাতিকেও বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।

সুলতানা কামাল বলেন, বর্তমানেও নির্বাচন নিয়ে সবাই বিব্রত অবস্থায় আছে। যদি কেউ কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে নির্বাচন কেমন হবে, আর না করলেই বা সেটা কেমন হবে? সেই উদ্বেগটা পুরোপুরি জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনেকে এমন জীবন মরণ খেলা বানিয়েছে, তাতে উলুখাগড়ার জীবন কীভাবে যাচ্ছে সেটা পরোয়া করে না। কেউ মরে যাক তাতে কী? তাদের ক্ষমতায় যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সংলাপে সমান সমান জায়গায় মানুষ বসে সহমতে পৌছাবার চেষ্টা করে। আমাদের এই সংলাপটি কী সমান সমান মানুষের মধ্যে হয়েছে? সেটা হয়নি। সংলাপি ছিলো পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে।

তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের একটা বড় অংশীদার হচ্ছে বিএনপি। বিএনপি এবার নির্বাচনে না গেলে চলবে না। বিএনপির উপর বিরাট বাধ্যবাধকতা আছে নির্বাচনে যাবার। যেই কথাগুলো বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী মাঠে ময়দানে বলে আসছেন, সংলাপে আমরা তার থেকে বেশি কিছু শুনিনি। যে ৭ দফার দাবি নিয়ে বিএনপি মাঠে ছিলো সেটাই সংলাপে উপস্থাপিত হয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সেটাই তাদের অর্জন বলেছেন।

সুলাতানা কামাল যোগ করেন, ‘বিএনপির বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেমন করে হোক তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। তা না হলে তাদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। একটি গণতন্ত্রের বিশেষ ব্যক্তি কিংবা দলের বদান্যতার উপর নির্ভর করছে, তারা নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ পাচ্ছেন কিনা। সেটা গণতন্ত্রের কোনো শর্ত নয়। জনগণ সব কিছু ঠিক করে দেবে। জনমত সেখানে প্রতিফলিত হবে। আমাদের রাজনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যেখানে জনগণের ভূমিকা নগন্য হয়ে গেছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ