প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগের চার হাজারেরও বেশী মনোনয়ন ফরম বিক্রি

জিয়াউদ্দিন রাজু : আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, আমরা প্রায় চার হাজারের বেশী মনোনয়ন ফরম বিতরণ করেছি। এবার আমরা প্রত্যাশার বাইরেও মনোনয়ন ফরম বিতরণ করেছি। এটা প্রায় চার হাজার ২৩ হবে। আজকে বিতরণ শেষ হলেও আগামীকাল পর্যন্ত জমা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মনোনয়ন ফরম বিতরণ শেষে তিনি এই তথ্য দেন।

মনোনয়নপত্র বিতরণের সময় জনদূর্ভোগের জন্য দু:খ প্রকাশ করে হানিফ বলেন, এই মনোনয়ন ফরম বিতরণের জন্য আমাদের এখানে উৎসমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছিলেন। গত চারদিন ধরে তারা এখানে একটা উৎসমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। সেই কারণে রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের কারণে কিছুটা জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছিল। যারা এই জনদুর্ভোগে কষ্ট পেয়েছেন তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করছি। অনিচ্ছাকৃত এই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা ভবিষ্যতে চেষ্টা করবো, যাতে আর এই ধরনের আর কোন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।

কতগুলো ফরম জমা পেড়ছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, তা চলমান আছে। যদিও আজ সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এটার সময়সীমা নির্ধারণ ছিল। তবে অনেকেই আসতে পারে নাই। অনেকেই দূর দুরান্ত থেকে এসেছেন। ফরম সংগ্রহ করে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কিছু তথ্য জোগাড় করতে হয়ত কারও সময় লেগেছে। সেই কারণে আমরা আগামীকালও যারা জমা দিতে পারেনি। তাদের ফরম জমা নেওয়ার জন্য আমাদের দপ্তর আগামীকালও (মঙ্গলবার) খোলা থাকবে।

কবে নাগাদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, আমাদের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড আছে। বামাদের মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী যাচাই-বাছাই করেন। প্রার্থীদের বাছাই শেষ করার পরেই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।

শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ যদি এককভাবে নির্বাচন করতো, তাহলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বাছাই পর্ব শেষ করেই চূড়ান্ত করেই ঘোষণা করা যেতো এখানে যেহেতু আমাদের সাথে জোট আছে, বড় জোট জোট আছে এবং আরও দুই একটি যুক্তফ্রন্ট তারা আওয়ামী লীগের সাথে জোটগতভাবে নির্বাচন করতে পারে। সেই সব বিবেচনা কবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীতা চুড়ান্ত করার পর অন্যান্য যারা জোটে আছে, তাদের প্রার্থীতা চূড়ান্ত করার পর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

সার্বিকভাবেই বেশ কিছু সময় কিছুদিন সময় লাগবে। আমরা আশা করি ২৮ নভেম্বর যে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার নির্বাচন কমিশন যে দিন ধার্য আছে তার অন্তত দুই তিনদিন আগেই প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত করে ঘোষণা করা হবে।

আমরা আশা করছি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী। তাই তিনি শুরু থেকেই চেষ্টা করেছেন সকল দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় নির্বাচনের। আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে। সেই পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যেই অন্যান্য দলগুলোও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আমরা চাই সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। বাংলাদেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হবে। এদেশের জনগণ, এদেশের ভোটার তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাবে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে এদেশকে উন্নয়ণ অগ্রগতির ধারায় এগিয়ে নিয়ে গেছেন।এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য উৎসবমুখর পরিবেশে আমাদের দেশের জনগণ এবং ভোটার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিপুলভাবে জয়যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীকে আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাবে।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দিপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধরী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য আখতারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ