প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু মৃত্যুরহার ২৫-এর নিচে আনার পরামর্শ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

মোহাম্মদ রুবেল: বাংলাদেশে বর্তমানে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরোগীর চিকিৎসার হার চল্লিশ শতাংশেরও নিচে। এ প্রেক্ষিতে আগামী ২০৩০ সালের নাগাদ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন (এসডিজি) করতে হলে নিউমোনিয় আক্রান্ত ৫ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যুহার হাজারে ২৫-এর নিচে নামিয়ে আনার পরামর্শ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

নিউমোনিয়া বিষয়ে জনসচেনতা বৃদ্ধিতে ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও চাইল্ড হেলথ রিচার্স আয়োজিত এক সাইন্টেফিক সেমিনারে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞারা এসব পরামর্শ দেন। সোমবার বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস-২০১৮ উপলক্ষ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালের অডিটরিয়ামে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. আবদুল আজিজ বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবার কেন্দ্র চালু করেছে। এসব কেন্দ্রগুলোতে প্রতিনিয়ত নিউমোনিয়া রোগী সনাক্তের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ২০০৯ সাল থেকে নিউমোনিয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিনামূল্যে বিশ্বমানের হিব এবং নিউমোকক্কসাস ভ্যাকসিন সরকারী ভাবে দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পেডিয়েট্রিক পালমনোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রবির কুমার সরকার বলেন, নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধ, প্রতিকার ও চিকিৎসার মাধ্যমে সারিয়ে তুলা সম্ভব। কিন্তু মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং সময়মত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুরহার কমানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০ লক্ষ শিশু মৃত্যুবরণ করছে। এ হিসেবে বাংলাদেশে প্রতিঘন্টায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গড়ে ২ জন শিশু মারা যাচ্ছে। অধ্যাপক আরও বলেন, শুধু কেবল ২০১৭ সালে ঢাকা শিশু হাসপাতালে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। এর মধ্যে শতকরা ৪ শিশুর মৃত্যু হয়। নবজাতক শিশুদের ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ পান, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সহ যথাসময়ে নিউমোনিয়ার টিকা দিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ ও শিশুদেও মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব এও বলেন তিনি।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাস্তবতা হলেও বাংলাদেশে এখনও চল্লিশ শতাংশের নিচে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসা পাচ্ছে। তবুও বাংলাদেশ নিউমোনিয়া চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে।

সেমিনারে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও বক্ত্য রাখেন, বাংলাদেশ পেডিয়েট্রিক এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ এবং এমকে আজাদ চৌধুরী বাংলাদেশ শিশু স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, মাইক্রোবায়োলজী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সমির কুমার সাহা সহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। সম্পাদনায়: সোহেল রহমান, হুমায়ুন কবির খোকন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ