প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৌদি ও আমিরাতে ইউরোপের ৪ বছরে ৮ হাজার ৬’শ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি

রাশিদ রিয়াজ : ২০১৫ সাল থেকে ইউরোপ সৌদি আরব ও আমিরাতে ৮ হাজার ৬’শ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করেছে। বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবেতর সহায়তার ব্যাপারে ইউরোপ সোচ্চার হলেও মধ্যপ্রাচ্যের এমন সব দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে যা ইয়েমেনের যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইয়েমেনে এ পর্যন্ত যে সহায়তা এসেছে তার চেয়ে এধরনের অস্ত্র বিক্রির মূল্য ৫৫ গুণ বেশি। মিডিল ইস্ট আই

দিন কয়েক আগে গবেষকরা জানান, ইয়েমেনে এপর্যন্ত যুদ্ধে ৫৬ হাজার মানুষ মারা গেছে, ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষে পড়তে যাচ্ছে অথচ একমাত্র জার্মানি ছাড়া ফ্রান্স, ব্রিটেন, ইতালি, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। এধরনের অস্ত্র বিক্রির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বন্দ্ব, সংঘাত যুদ্ধে রুপান্তরিত হওয়ায় সেখানে মানবেতর সহায়তার প্রয়োজন পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দশকের পর দশক ধরে উন্নত দেশুগুলো যে অস্ত্র বিক্রি করছে এবং এর বিনিময়ে যে অর্থ ইউরোপের ব্যাংকগুলোতে জমা পড়ছে তা শিক্ষা ও মানব উন্নয়নে ব্যয় করতে পারলে মানব ইতিহাস এতটা যুদ্ধবিগ্রহ ও হতাহতের ঘটনা পূর্ণ হয়ে উঠত না। মানবেতর সহায়তার কোনো প্রয়োজন পড়ত না। ৮০’র দশকে সৌদি আরব ও ব্রিটেনের মধ্যে যে অস্ত্র ক্রয় চুক্তি হয় তারমধ্যে ব্রিটিশ অস্ত্র কোম্পানি বিএই একাই সাড়ে ৫ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে।

২০১৫ সালে ইউরোপের ২১টি দেশ অস্ত্র রফতানির লাইসেন্স লাভ করে। এরপর সৌদি আরবে ২৫.৩ ও আমিরাতে ১১.৪ বিলিয়ন ডলার অস্ত্র বিক্রি করেছে ইউরোপের এসব দেশ। এর মধ্যে সাড়ে ১৪ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ বিমান ও হ্যান্ডগ্রেড বিক্রি করা হয়েছে যা বেসামরিক হতাহতের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৬ সালে ইউরোপের ১৭টি দেশ সৌদি ও আমিরাতের কাছে যথাক্রমে ১৮.৩ ও আমিরাতের কাছে ৩১.৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি করে। প্রায় ৩০ বছর পরও গুচ্ছবোমা এখনো ইয়েমেনে ফেলা হচ্ছে যা অনেক আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ