প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বঙ্গোপসাগরের ২৩ ব্লকে এখনো গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেই

শাহীন চৌধুরী: দেশে গ্যাস সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করলেও নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার বা অনুসন্ধানের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে উপেক্ষিত অপসর ব্লকগুলো। বঙ্গোপসাগরের ২৬ গ্যাস ব্লকের মধ্যে ২৩টিতেই গ্যাস অনুসন্ধানের কোনও উদ্যোগ নেই। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত এবং মিয়ানমার বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলন করে নিজ দেশের চাহিদা মেটানোর পাশপাপাশি বিদেশে রফতানি করছে।

সূত্রমতে, বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে বহুজাতিক কোম্পানি অনুসন্ধান উত্তোলনে রাজি না হওয়ায় বিডিং রাউন্ড-এর আগে মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছর তিনেক সেই উদ্যোগ ঝুলিয়ে রাখার পর এখন এসে মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভেকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে গভীর অগভীর মিলিয়ে ২৬ ব্লকের মধ্যে মাত্র তিনটিতে কাজ করছ বহুজাতিক কোম্পানি।

জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, দরপত্র আহ্বান করে কাজ দেওয়া হলে উৎপাদন বন্টন নীতির (পিএসসি) মধ্যেই জরিপের বিষয়টি থাকে। সঙ্গত কারণে আলাদা করে মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভে করার কোনও প্রয়োজন নেই।

সূত্র জানায়, মাল্টিক্লায়েন্ট সার্ভের মূল বিষয় ছিল দরপত্রের আগেই কোনও কোম্পানিকে দিয়ে বঙ্গোপসাগরের বিশাল এলাকায় জরিপ করানো। এই জরিপের ফলাফল অর্থের বিনিময়ে দরপত্র কাজ পাওয়া কোম্পানিকে কিনে নিতে হবে। জরিপের খরচ উঠে আসবে দরপত্রে কাজ পাওয়ার কোম্পানির কাছ থেকে। এতে সরকারের কোনও আর্থিক ক্ষতি হবে না। বরং দ্রুততার সঙ্গে কাজ হবে।

২০১৫ সালে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দ্বিমাত্রিক জরিপ সার্ভে করতে পাঁচটি দরপ্রস্তাব জমা পড়েছে। এর মধ্যে নরওয়েভিত্তিক সিসমিক সার্ভে প্রতিষ্ঠান টিজিএস-স্কালম বার্জার জেভিকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্তও করা হয়। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এত দিন বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার পর এখন উদ্যোগটি বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়।

জানা গেছে, শুধু মাল্টিক্লায়েন্টই নয়, সাগরের অন্য কাজগুলোও ঝুলে যাচ্ছে। ভারত ও মিয়ানমার সাগর থেকে গ্যাস তুলছে। সেখানে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সাগরের ২৬টি ব্লকের মধ্যে মাত্র তিনটি ব্লকে বাংলাদেশ কাজ শুরু করেছে। বাকি ব্লকগুলোতে কাজের কোনও উদ্যোগই নেই।
২০১২ সালের ১৪ মার্চ মিয়ানমারের কাছ থেকে বঙ্গোপসাগরের এক লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটার এবং ২০১৪ সালের ৮ জুলাই ভারতের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৪৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা পায় বাংলাদেশ। এরপর সব মিলেয়ে ব্লক পুনর্বিন্যাস করে ২৬টি ব্লকে ভাগ করা হয় গোটা সমুদ্রসীমাকে। কিন্তু এখন এর মধ্যে মাত্র তিনটি ব্লকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাকি ২৩ ব্লক অলস পড়ে আছে।

২০১৭ সালের ১৪ মার্চ পেসকো দাইয়ু করপোরেশন নামের দক্ষিণ কোরিয়ার একটি কোম্পানির সঙ্গে সাগরের ১২ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) সই করে পেট্রোবাংলা। সমুদ্র উপকূল থেকে ব্লকটির দূরত্ব ১৮০ কিলোমিটার, অর্থাৎ এটি বঙ্গোপসাগরের ১৮০ কিলোমিটার গভীরে। ব্লকটির ওপর পানির গভীরতা গড়ে এক হাজার ৭০০ মিটার। অন্যদিকে ভারতীয় কোম্পানি অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস করপোরেশন (ওএনজিসি) অগভীর সমুদ্রে ৪ ও ৯ নম্বর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ করছে।

পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা সরকারের কাছে আমাদের পিএসপির সুপারিশ পাঠিয়েছি। সুপারিশগুলো জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইনের অনুমোদন পেলে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। এরপর অনুমোদন পেলে সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন বিডিং রাউন্ডে যাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ইতিপূর্বে সাগর থেকে শুধুমাত্র সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস উত্তোলন করেছে। এই গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৯৬ সালে আবিষ্কার করে ব্রিটিশ তেল-গ্যাস কোম্পানি কেয়ার্ন এনার্জি। ১৯৯৮ সালে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু করে কোম্পানিটি। সাঙ্গু আনুষ্ঠানিক ভাবে নিঃশেষ ও পরিত্যক্ত হয় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর। এরপর সাগরের আর কোনও ক্ষেত্রে তেল-গ্যাসের অনুসন্ধান করা হয়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ