Skip to main content

সফলতা নেই স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালে

শাকিল আহমেদ: ট্রাফিক ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ঢাকার ২০টি সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল ‘স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল’। কিন্তু পরিবহনের চাপে কোন সুফলতাই পাওয়া যাচ্ছে না এ পদ্ধতি থেকে উল্টো সড়কে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে ১৭টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো। সেই অনুযায়ী দীর্ঘদিন অকেজো থাকা সিগন্যাল বাতিগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেয় পুলিশ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গত মাসের মাঝামাঝিতে নগরীর ২০টি সড়ক ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল বাতির মাধ্যমে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসব সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের কথা। কিন্তু পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বাতি সফলতা পায়নি। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চালু স্থানগুলো ঘুরে করে দেখা গেছে, দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করছেন। পান্থপথ মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ বলেন, শুক্রবার সরকার ছুটির দিন সকালের দিকে সিগন্যাল বাতির মাধ্যমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু অন্যান্য দিন যখন পরিবহনের সংখ্যা বেশি থাকে তখন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। একদিকে দীর্ঘ যানজট, অন্যদিকে ফাঁকা থাকে। মানুষ বিরক্ত হয়। বাধ্য হয়েই আবার হাতের ইশারায় কাজ করতে হয়। সিগন্যাল ও হাতের ইশারায় মিলিয়ে কাজ করায় অনেক সময় চালককে বিভ্রান্ত অবস্থায় পড়তে হয়। একজন প্রাইভেটকার চালক বলেন, গত সপ্তাহে দেখেছি সিগন্যাল বাতির মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। কিন্তু আজ দেখছি আবার হাতের ইশারায়। এতে তো আমারা বিভ্রান্ত হচ্ছি। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর পরিকল্পনাবিদ ও কেইস প্রকল্পের পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পুরো ব্যবস্থাপনাটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে যাচ্ছি। তবে সফলতা ব্যর্থতা পুলিশই বলতে পারবে। সিগন্যালগুলোতে রিমোর্ট কন্ট্রোল অটোমেটিক চালু হলে এই সমস্যা আর থাকবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার ট্রাফিক (দক্ষিণ) মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকা শহরে গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি। অনেক সময় দেখা গেছে যানবাহনের এতই চাপ তখন সিগন্যালে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তখন হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ কতে হয়ে। ১০ বছর আগেও মানুষ সিগন্যাল বাতির ইশারায় যানবাহন চালিয়েছে। এরপর যানবাহনের চাপে সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় মানুষের অভ্যাস নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি মানুষকে অভ্যস্ত করতে। নগরীর যেসব স্থানে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়েছিল সেগুলো হচ্ছে বাংলামোটর, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, শাহবাগ, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, গুলিস্তান, দৈনিক বাংলা, পল্টন, কাকরাইল, নাইটইঙ্গেল মোড়, বিচারপতির বাসভবন, মৎস্য ভবন, কদম ফোয়ারা, বেইলি রোড, ধানমন্ডি-২৭, রাসেল স্কয়ার, ধানমন্ডি ১০ ও ধানমন্ডি-৭।

অন্যান্য সংবাদ