প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবননগরে বাড়ছে শীত, পাল্লা দিয়ে কমছে শীতের সবজির দাম

জামাল হোসেন খোকন, চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় শীত বাড়তে শুরু করেছে। সেই সাথে বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। শীত বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে সবজির উৎপাদনও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এদিকে শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে কমতে শুরু করেছে বাজারে আসা শাক-সবজির দামও। শীতকালীন সবজির দাম কম হওয়ায় ক্রেতা সাধারণ খুশি হলেও সংশ্লিষ্ট চাষীদের মুখে হতাশার ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

জীবননগর উপজেলা সদরসহ উপজেলার বিভিন্ন ছোট-বড় হাটবাজার সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,বাজারে শীতকালীন সবজির ব্যাপক আমদানি থাকায় দিন দিন সবজির দাম আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে বলে বিক্রেতা সাধারণ জানিয়েছেন। কার্তিক মাস জুঁড়ে শীতকালীন সবজির দাম চাষীরা বেশী পাওয়ার আশা করে থাকেন। যে কারণে চাষীরা কার্তিক মাসকে সামনে রেখে আগাম শীতকালীন সবজির চাষও বেশী করে থাকেন।

এ বছর কার্তিক প্রায় শেষের দিকে। মওসুমের শুরুতে অগ্রহায়ন এং পৌষ মাস জুঁড়েই শীতকালীন সবজি বাজারে বেশী আসতে থাকে। ফলে এ সময় সব ধরণের সবজির দাম ক্রেতা সাধারণের নাগারের মধ্যে থাকে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে প্রতি কেজি সবজির ২০-২৫ টাকা হারে কমেছে। তবে আলুর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বর্তমানে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে শীতকালীন সবজি হিসাবে আলু ২৫ টাকা,বাঁধাকপি ১০ টাকা,ফুলকপি ১২ টাকা,শিম ২০ টাকা,লাউ ১২ টাকা,মূলা ১০ টাকা,করলা ৩২ টাকা,উচ্ছে ৪০ টাকা ,বরবটি ২০ টাকা,পটল ১৬ টাকা,বেগুন ২০ টাকা,পালং শাক প্রতি আটি ৮ টাকা,মরিচ ২০ টাকা,পিঁয়াজ ৩০ টাকা,রসুন ৩২ টাকা,ওল ২০ টাকা,মানকচু ২০ কেজি,ঢ়েঁড়স ২০ টাকা,পেঁপে ১০ কেজি,টমেটো ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

জীবননগর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী কাজিজ হোসেন বলেন,হঠাৎ করেই সবজি বাজারে ধস নেমেছে। ক্রেতার চেয়ে আমদানি বেশী থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাইকারী ব্যবসায়ীরা আমাদেরকে জানিয়েছেন ঢাকার বাজারেও সবজির তেমন একটা দাম নেই। এমন পরিস্থিতিতে শুধু চাষীরাই নয় আমরাও বিপাকে পড়েছি। মালামালের বেচাকেনা কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক সবজি চাষীর সাথে কথা বলে জানা যায়,বেশী দামের আশায় চলতি বছর ব্যাপক হারে সবজির আবাদ হয়েছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে লাভ তো দুরের কথা লোকসান গুনতে হবে। তবে এলাকায় হিমাগার গড়ে উঠলে এ ভাবে সবজির বাজারে ধ্বস নামত না। অন্যদিকে ক্রেতা সাধারণের দাবী বেশ কয়েক দিন ধরে বর্তমান বাজারে আসা শীতকালীন সবজির দাম বেশ কমতে শুরু করেছে।

উপজেলা সহকারী কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা মুন্সী আব্দুস সালেক বলেন,চলতি মওসুমে উপজেলায় ব্যাপক হারে সবজির আবাদ হওয়ায় বাজারে দাম একটু কম। তবে তাতে চাষীদের লোকসানের কোন সম্ভবনা দেখছি না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ