প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তেঁতুল, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে স্বাদ বদলায়

আসাদুজ্জামান জুয়েল : তেঁতুল বা তিন্তিড়ীর বৈজ্ঞানিক নাম: ঞধসধৎরহফঁং রহফরপধ, ইংরেজি নাম: গবষধহবংরধহ ঢ়ধঢ়বফধ এটি ঋধনধপবধব পরিবারেরঞধসধৎরহফঁং-গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত টক স্বাদযুক্ত ফলের গাছ। এটি এক প্রকার টক ফল বিশেষ। আলঙ্কারিক অর্থে পাজি, দুষ্ট, বদমাশ মানুষকে তেঁতুলে লোক বলা হয়ে থাকে।

তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকায় খাবার হজমে সহায়তা করে। পেটের বায়ুু, হাত-পা জ্বালায় তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী। রক্তে কোলস্টেরল কমানোর কাজে আধুনিককালে তেঁতুল ব্যবহার হচ্ছে। জ¦রে ভোগা রোগীর জর কমানোর জন্য এ ফল ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও স্কেলিটাল ফ্রুরোসিস (ংশবষবঃধষ ভষঁড়ৎড়ংরং) রোগের প্রকোপ হ্রাস করতেও এটি ব্যবহৃত হয়। পাকা তেঁতুল ভিজিয়ে রেখে সকালে শুধু পানি খেলে হাত-পায়ের জ্বালা কমে। তেঁতুল দেখলে শুধু ছেলেদেরই নয়, মেয়েদেরও লালা ঝরে। চটপটি, ফুসকায় মেয়েদের পছন্দের তালিকায় তেঁতুল গোলা টকই পছন্দের শীর্ষে। তেঁতুলের ফলই শুধু উপকারী নয়, তেঁতুল গাছেরও আছে অনেক ব্যবহার। মাংস কাটাকুটিতে কষাইরা, কোরবানীর সময় আম জনতা তেঁতুল গাছের ছোট ছোট টুকরা ব্যবহার করে। তবে তেঁতুল গাছের মুগুর মানুষকে সায়েস্তা করতে বেশ ওস্তাদ। তাই তেঁতুলের মুগুর হতে সাবধান থাকতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে গোত্র ভেদে তেঁতুলের স্বাদ বদলায়। তেঁতুল যদি শত্রুর ঘড়ে ওঠে তবে তা টক আর নিজের ঘরে ওঠে তবে তা অতিশয় মিঠা হয়ে থাকে। আমাদের রাজনীতিতে তেঁতুলের অবস্থান বেশ মজবুত।  দেশে তেঁতুল ফলের সাথে আরেকটি নামও বেশ পরিচিত। তা হলো তেঁতুল হুজুর। এক হুজুর মেয়েদের তেঁতুলের সাথে তুলনা করেছিলেন। মেয়েরা নাকি তেঁতুলের মতো, দেখলে লালা ঝড়ে! সেই তেঁতুল হুজুর যখন ১৩ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামেন তখন অনেকেই সমর্থন দিয়েছিলেন, অনেকে করেছিলেন বিরোধিতা।

যখন তেঁতুল হুজুর আন্দোলনে ব্যস্ত তখন এক নেত্রী সমাবেশে বলেছিলেন, ‘আলেমরা দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নেমেছেন। মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে যারা বাজে কথা বলেছেন, তাদের শাস্তির দাবিতে আলেম-উলামারা এই আন্দোলন করছেন। তার জন্য আমি তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাই’। তিনি আরো বলেন, ‘দেশের আলেম-উলামারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়েছেন। আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক দেশে সবারই গণতান্ত্রিক কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। সরকারকে বলবো, তাদের কর্মসূচিতে বাঁধার সৃষ্টি করবেন না।’

আর অপর নেত্রী তখন তেঁতুল হুজুর সম্পর্কে বলেছিলেন ‘মহিলাদের সম্পর্কে এই যে নোংরা কথা বলা- উনি কি মায়ের পেট থেকে জন্মান নাই? তো মায়ের সম্মানটুকু উনি রাখবেন না? উনার কি বোন নেই? নিজের স্ত্রী নেই? তাদের সম্মান রাখবেন না? এরকম নোংরা জঘন্য কথা বলবেন’। ২০১৩ সালের ৫ মে অনুষ্ঠিত ঢাকা অবরোধে অনেক নেতা পানি, জুস, রুটি, হালুয়া নিয়ে সেবা করেছিলেন হুজুরদের। কেউ কেউ এই অবরোধ অয়েকদিন চালিয়ে সরকার পতনের খোয়াবও দেখেছিলেন। আবার অনেক নেতা হুজুরের বিষোদগার করতেও ছাড়েননি। তারা হুজুরের বিভিন্ন দফা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে কীভাবে ঘায়েল করা যায় সেই পথে হেঁটেছেন।

এরপর জিভের পানি গড়িয়ে অনেক দূর চলে গেছে। আস্তে আস্তে কিছু দাবি-দাওয়া মানার পর তেঁতুল হুজুরের সাথে অনেকের সম্পর্ক গাঢ় হয়েছে। এখন তেঁতুল বড় মিঠা। আর যারা এতোদিন তেঁতুলের মুগুর দিয়ে পিটিয়ে সরকার পতনের খোয়াব দেখেছেন, তাদের কাছে আজ তেঁতুল বড়ই টক। তাই এটা স্বীকার করতেই হবে যে, স্থান, কাল, পাত্র ভেদে তেঁতুলের স্বাদ নির্ভর করে। তবে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তেঁতুল গাছে ফল ধরে অনেক বেশি কিন্তু পাকা পর্যন্ত টিকে কম। তেঁতুল গাছে ইঁদুরের আক্রমণ হয়। ইঁদুরে কাচা তেঁতুল কেটে ফেলে। তাই অনেক ফলসহ তেঁতুল গাছ নিজ ভূমিতে আবাদ করলেও খেয়াল রাখতে হবে যেন ইঁদুরে কেটে বিনাশ না করে। তবেই তেঁতুলের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।

লেখক : আইনজীবী ও কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ