প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘দলের নিবন্ধন সংশয় থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছি’

আশিক রহমান : তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেছেন, দলের নিবন্ধন সংশয় থেকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছি। দলের অন্যদেরও কিনতে বলেছি। চৌদ্দদলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম সাহেবের কাছে আমরা একটা তালিকা দিয়েছি। সেই অনুযায়ী নৌকার মনোনয়নপত্র কিনে সাবমিট করবে প্রার্থীরা। সেটি সমন্বিত একটি প্রচেষ্টা হবে। যারা নৌকা ফরম কিনে মনোনয়ন চাইবে ধরে নেওয়া হবে আমাদের সেই তালিকারই অন্তর্ভুক্ত একজন প্রার্থী। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, তৃণমূল বিএনপির নিবন্ধনের আদেশ হয়েছে আদালত থেকে। তবে এখনো পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে সেই অর্ডার পাইনি। যদিও আমরা ধরে নিয়েছি আদালতের আদেশের পর তৃণমূল বিএনপি এখন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কীভাবে আদালতের এই আদের্শ গ্রহণ করবে, এ বিষয়ে সংশয় থেকেই যায়। নির্বাচন কমিশনকে তো আদালতের নির্দেশ মানতেই হবে। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে এখন যে ব্যস্ততার মধ্যে রয়েছে, হয়তো ইমেডিয়েট সিদ্ধান্ত দিতে কিছুটা অসুবিধা তাদের হতে পারে।

এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, তৃণমূল বিএনপি থেকে না নিয়ে, কেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র কিনেছি তা নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতাও রয়েছে বলতে পারেন। কারণ আমরা জোটভুক্তভাবে নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু এ মুহূর্তে আমাদের কী করতে হবে সে বিষয়ে খুব নিশ্চিত নই। মনোনয়পত্র কিনেছি মাত্র, জমা দেওয়ার আগে সমস্ত বিষয়গুলো আমরা ঠিক করে নেবো। এর বাইরেও বেশ কয়েটি কারণ আওয়ামী লীগ আমার মনোনয়নপত্র কেনার।

তিনি বলেন, আদালতের আদেশ মেনে নিয়েই আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করবো। নির্বাচন কমিশনকে আমরা খুব শিগগিরই চিঠি দেবো, ‘সোনালী আঁশ’-এর প্রতীকে কারা প্রার্থী। তারা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করতে চান। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন থেকে বলা হয়, সোনালী আশ প্রতীক এখন আপনারা পেতে পারেন না তাহলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নেবো। এটা আমাদের জোটের মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি ঢাকা-১৭ থেকে নির্বাচন করতে চাই, প্রতীক অবশ্যই নৌকা পেতে চাই। সেদিন আমার এই মনোনয়নপত্র কেনাটা দরকার ছিলো। তৃণমূল বিএনপির মনোনয়নপত্র কিনেও নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ থাকলেও একটা অনিশ্চয়তা দূরীকরণেই আমার এ উদ্যোগ।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূল বিএনপি থেকেও মনোনয়নপত্র দেবো। সেটা আজকালকের মধ্যেই হবে। যারা আগ্রহী প্রার্থী, মনোনয়নপত্র কিনতে পারবেন। তখন একটা জায়গা তৈরি হবে যে, আমরা কী নিজেদের প্রতীকেই নির্বাচন করবো নাকি নৌকা প্রতীকে। তবে তা নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশন কতোটুকু বিতর্কেও ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে পারবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে মামলা রয়েছে সেটার এখনো পর্যন্ত যে রায় হয়েছে তা স্বাক্ষরিত নয়। চূড়ান্ত রায়ও না। বৈধভাবে এখনো যেখানে একটা রায় প্রকাশিত হয়নি, সেই রায় তো আমার ওপর প্রযোজ্যও নয়। রায়ের অর্ডারে যেটা উল্লেখ আছে রায় দেওয়ার পঁয়তাল্লিশ দিনের মধ্যে আমাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। আত্মসমপর্ণ করার ক্ষেত্রও তৈরি হয়নি। নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো প্রশ্ন উঠলে তা আইনগতভাবেই আমি মোকাবিলা করবো।