প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনৈতিক কারণে বেশি আক্রান্ত বাংলাদেশিরা

কালের কণ্ঠ : গত ১০ বছরে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই রাজনৈতিক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি বেসামরিক লোক আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত-সহিংসতা নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ডাটা প্রজেক্টের (অ্যাকলেড) এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ইউএন ওসিএইচএ) পোর্টাল রিলিফওয়েবে গত শুক্রবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে একে ‘চলমান পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অ্যাকলেডের বাংলাদেশবিষয়ক তথ্যভাণ্ডারে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিবাদ ও অন্যান্য অহিংস ঘটনার তথ্য রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে এ যাবৎ যোগ হওয়া ঘটনার সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ৮০০।

সহিংসতাগুলোকে অ্যাকলেড মূলত চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে। সেগুলো হলো সংঘর্ষ, গুপ্ত হামলা, সহিংসতা, দাঙ্গা ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং বেসামরিক লোকজনের ওপর সহিংসতা। বেসামরিক লোকজনের ওপর সহিংসতা ক্যাটাগরিতে আফগানিস্তান, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। দাঙ্গা ও প্রতিবাদ বিক্ষোভে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান প্রায় কাছাকাছি অবস্থানে আছে।

অ্যাকলেডের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সংঘাতের উচ্চমাত্রার ঝুঁকি আছে। একমাত্র আফগানিস্তানেই ঝুঁকি বাংলাদেশের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশে গুপ্ত হামলার হার কম হলেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে বেশ কয়েক মাস বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকা অবরোধের সময় গণপরিবহনে সহিংস হামলায় অনেক বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৬ ও ২০১৭ সালেও বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু হামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

অ্যাকলেডের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন ঘিরে অনেক সহিংসতা ঘটে এবং হতাহত হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এবার নির্বাচনে অংশ নিলে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা ২০১৪ সালের তুলনায় কম হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সহিংসতার সংস্কৃতির পুরোপুরি অবসান নাও হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। এটি আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

বাংলাদেশে সহিংসতার বড় অংশই নিরস্ত্র বা কম মাত্রার অস্ত্র দিয়ে সংঘটিত। এগুলোর বেশির ভাগই রাজনৈতিক সহিংসতা এবং এতে অংশ নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম কিংবা সমর্থনপুষ্ট সংগঠনগুলো। বাংলাদেশে সহিংসতার বেশির ভাগ রাজনৈতিক হলেও নিহত মানুষের সংখ্যা সে অনুপাতে কম। কারণ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতাগুলোর বেশির ভাগই ছিল অস্ত্রবিহীন। কখনো কখনো স্বল্পমাত্রার বা নিজেদের তৈরি অস্ত্র বা সরঞ্জামের ব্যবহার হয়েছে।

বাংলাদেশে জনগণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে বিভক্ত—এমনটি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ অনেক ক্ষেত্রেই সংঘাতে রূপ নেয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়েই অন্য ছোট দলগুলোকে নিয়ে জোট করেছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট গড়ে ওঠে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির সবচেয়ে সক্রিয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০১০ সাল থেকে এ যাবৎ সহিংসতাগুলোর বেশির ভাগই হয়েছে রাজনৈতিক দল বা তাদের সহযোগী কিংবা নামধারী সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন জোটের ভূমিকা বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ