প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সবাই মিলে নির্বাচন করব : প্রধানমন্ত্রী

সমকাল : নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ সব দলকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা সবাই মিলে নির্বাচন করব। জনগণ যাকে চাইবে, তাকেই ভোট দেবে- সেটাই আমরা করব। নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সবাইকে ধন্যবাদ ও স্বাগত জানাচ্ছি। এটি গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও শক্তিশালী করবে। অর্থনৈতিক গতিও ত্বরান্বিত করবে বলে আমি আশা করি।’

গতকাল রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বোর্ডের প্রধান শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। সব মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে আগামী বুধবার সকাল ১১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির কার্যালয়ে।

গত ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের সংলাপের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সংলাপে ৭০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের ২৩৪ জন নেতা অংশ নিয়েছিলেন। সাত দিনে মোট ২৪ ঘণ্টা ৫ মিনিট সংলাপ হয়। নির্বাচনটা আমরা কীভাবে করব এবং নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, সংলাপে সেই আলোচনা হয়েছে। অনেকে অনেক দাবিদাওয়া করেছেন। বেশ কিছু আমরা মেনে নিই। তা ছাড়া নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক হতে পারে, সবাই যেন নির্বাচন করার সুযোগ পান- সেদিকে দৃষ্টি রাখা হবে। সে কথা আমরা দিয়েছি। আমরা চাই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। নির্বাচনে জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই জয়লাভ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সব সময় এটাই চাই, যে উন্নয়নটা আমরা করেছি তার ধারা যেন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এই গতিটা যেন কোনোমতেই থেমে না যায়। বাংলাদেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে। সেদিকে দৃষ্টি রেখেই আমরা সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্রের ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, চেষ্টা করব উপযুক্ত প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে। সব সময় নিজেদের দলের ৩০০ আসনে প্রার্থী ঠিক করলেও জোট প্রার্থীদের জন্য পরে আসন ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর সংসদীয় বোর্ডের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম শুরুর পর এটি ছিল দলের সংসদীয় বোর্ডের প্রথম বৈঠক।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিপুলসংখ্যক মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ১৪ দল ও মহাজোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে যেসব আসনে ছাড় দেওয়া হবে, সেসব আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সরে দাঁড়াতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন। তিনি বলেছেন, প্রথমে তিনশ’ আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর জোটগত প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে যেসব আসনে জোট শরিকদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেসব আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সরে দাঁড়াতে হবে।

বৈঠকে ১১ সদস্যের সংসদীয় বোর্ডের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ ছয়জন যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের সদস্য সচিব ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও রশিদুল আলম। অসুস্থতার জন্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আলাউদ্দীন আহমেদ এবং বিদেশে থাকায় কাজী জাফরুল্লাহ বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। বোর্ডের আরেক সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গত বছরের এপ্রিলে মারা গেছেন।

এ বৈঠককে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের সড়কগুলো জমজমাট ছিল। দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলসহকারে সেখানে আসেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকালে নিরাপত্তাজনিত কারণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ওই এলাকা ত্যাগ করার পর নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে মিছিলে মিছিলে সরগরম করে তোলেন গোটা এলাকা। এ সময় নৌকার পক্ষে স্লোগান দেন তারা। অনেকেই ব্যান্ড পার্টি ও বাদ্যের তালে তালে নেচে-গেয়ে মুখর করে তোলেন।

সবার সাক্ষাৎকার একদিনেই :বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়সংলগ্ন নতুন ভবনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমার কার্যক্রম আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে। আর মনোনয়নপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের সময় ১৪ নভেম্বর ১১টায় ধানমণ্ডি কার্যালয়েই। একদিনেই সব মনোনয়নপ্রার্থীর সাক্ষাৎকার শেষ করা হবে।

জোটগত নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, ১৪ দল জোটবদ্ধভাবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করবে। সেখানে জোট শরিকদের বাইরেও কিছু দলের নাম রয়েছে। জাতীয় পার্টি মহাজোটে থেকে নির্বাচন করলে ও আসন ভাগাভাগি হলেও তারা নিজেদের প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে ভোটে যাবে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন করলে তাদের সঙ্গেও জোট হতে পারে। যুক্তফ্রন্ট যুক্ত হলে মহাজোটের কলেবর বাড়বে। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে বৈঠকও হচ্ছে। আওয়ামী লীগ তো বসে নেই।

জোট ও মহাজোটে আসন সমঝোতা হলে শরিকদের জন্য ছাড় দেওয়া আসনগুলোতে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তবে আওয়ামী লীগ আগে নিজেদের মনোনয়ন ঠিক করবে। আর আসন ভাগাভাগি হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ফেলবেন। এ জন্য দলীয় প্রার্থীদের কাছ থেকে আগে থেকেই প্রত্যাহারপত্র নিয়ে রাখা হবে।

ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী তফসিল পেছানোর দাবি-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন পেছানোর ব্যাপারে দাবি থাকলে সেটি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। কমিশন যদি সময় বাড়াতে চায়, সেখানে আওয়ামী লীগের আপত্তি থাকবে না। তবে আওয়ামী লীগ সময় বাড়ানোর কোনো দাবি জানায়নি। শুধু ১৪ দলীয় শরিকদের জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত-সংক্রান্ত চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জোট শরিকদের বলে দেওয়া হয়েছে, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জিততে পারবেন- এমন প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার বেলায়ও অগ্রহণযোগ্যদের বাদ দেওয়া হবে। এবারের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির বিপক্ষে লড়তে হবে। তাদের দুর্বল দল মনে করলে চলবে না। জয়ী হতে সক্ষম ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের বেছে নিতে অনেক জরিপ করা হয়েছে। প্রার্থী তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে এসব জরিপ বিবেচনায় নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া উপস্থিত ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ