প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসন বণ্টনের চ্যালেঞ্জ বিএনপি জোটে

অনলাইন ডেস্ক : নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিএনপিকে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এবার দুটি জোটের শরিকদের আসনের চাহিদা মেটাতে হবে দলটিকে। বিএনপির কাছে ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য দল ও ২০ দলীয় জোট শরিকরা চায় অন্তত ২০০ আসন। তবে দুই জোটের শরিকদের জন্য ৬০টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ বিএনপি।

সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলো বণ্টনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মনোনয়ন দেওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে দলগত ও ব্যক্তিগত ভোটব্যাংকের হিসাব। পাশাপাশি বিএনপি প্রার্থী থেকে যোগ্য এবং ভোট টানতে সক্ষম প্রার্থীরা মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা পাবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এখন তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে আসন বণ্টন। এবার সম্পূর্ণ প্রতিকূল পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। এ বিষয়টি জোটের সব শরিকের মনে রাখতে হবে। আসন বণ্টনের ব্যাপারে সবাইকে সর্বোচ্চ উদারতা দেখাতে হবে।

জোট শরিকরা চাচ্ছেন যত দ্রুত সম্ভব আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করা হোক। দাবিমতো আসন না পেলে জোট ছাড়ারও হুমকি রয়েছে  কোনো কোনো দলের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আসন বণ্টনের সমন্বয়ক করা হয়েছে। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হবে।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক গণফোরাম ৩০, জেএসডি ৩০, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ২০ এবং নাগরিক ঐক্য ২০টি আসন চাইবে বিএনপির কাছে। ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের দাবি ১০০ আসন হলেও বিএনপি সূত্র নিশ্চিত করেছে, তাদের ১০টি আসন দেওয়া হবে। ভোটের আগে জাতীয়ভাবে পরিচিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলে তাদের জন্য পাঁচটি আসন ছাড়া হবে। সব মিলিয়ে ১৫টির বেশি আসন ঐক্যফ্রন্ট শরিকদের ছাড়বে না বিএনপি। তবে জেতার মতো প্রার্থী যে দলেরই হোক, তাকে জোটের মনোনয়ন দিতে চায় বিএনপি।

২০ দলীয় শরিকদের মধ্যে জামায়াতের দাবি ৫০ আসন। জোটের অন্য শরিক দলগুলো ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও নিবন্ধন হারানো জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এহসানুল মাহবুব জোবায়ের। জামায়াতকে ২০০১ সালে ৩০ এবং ২০০৮ সালে ৩৩ আসনে ছাড় দিলেও আসন্ন নির্বাচনে দলটিকে কিছুতেই ২৫টির বেশি আসন ছাড়তে নারাজ বিএনপি।

এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, ২০০৮ সালে জামায়াত ৩৮টি আসনে নির্বাচন করেছিল। তারাও বুঝতে পারছেন আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা কিছুটা কাটছাঁট করতে হবে। কারণ জোট সম্প্রসারিত হয়েছে। নতুন শরিক এসেছে। তাদের জন্য আসন ছাড়তে হবে বিএনপিকে। জামায়াতও ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। তবে ২০০১ সালের চেয়ে বেশি আসন চান তারা। তিনি জানান, আগামী দু-একদিনের মধ্যে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হবে।

২০ দলের বাকি ১৮ শরিকের দাবিনামায় রয়েছে অন্তত ৫০ আসন। এলডিপি যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাৎ হোসাইন জানিয়েছেন, তাদের দাবি অন্তত ২০ আসন। তবে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের এলডিপির সাবেক ছয় এমপিসহ সাতজনকে জোটের মনোনয়ন দেওয়া হবে।

অনিবন্ধিত জাতীয় পার্টির (জাফর) দাবি অন্তত ১৫ আসন। তাদের চারটি আসন ছাড়তে পারে বিএনপি। এর বাইরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ৩টি, বিজেপিকে ১টি, জাগপাকে ১টি, কল্যাণ পার্টিকে ১টি এবং খেলাফত মজলিশকে ১টি আসন ছাড়তে রাজি বিএনপি। বাকি দলগুলো আসনবঞ্চিত হতে পারে। তবে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার নির্দেশনা রয়েছে সব শরিকের ত্যাগের মূল্যায়ন করা।

ঐক্যফ্রন্ট শরিকদের মধ্যে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম ৩০টি আসন চাইলেও দুটি আসনে তাদের মনোনয়ন নিশ্চিত। ড. কামাল ও গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু জোটের মনোনয়ন পাবেন। দর কষাকষিতে গণফোরাম আরও দু-একটি আসন পেতে পারে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলটি ৪৫ আসনে প্রার্থী দিয়ে সাকল্যে ৭২ হাজার ৯১১ ভোট পেয়েছিল। একটি বাদে সব আসনে জামানত হারিয়েছিল। গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, তারা আপাতত নিজ দলের মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবেন। পরে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে আসন বণ্টন ও প্রতীকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

জেএসডিরও দাবি ৩০ আসন। তবে দলটির নেতারা জানিয়েছেন, তারা অনড় অবস্থানে নেই। ২০০৮ সালে ৪৫ আসনে প্রার্থী দিয়ে সব ক’টিতে জামানত হারানো জেএসডি সাকল্যে ৩৭ হাজার ৩৫০ ভোট পেয়েছিল। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি তাদের সর্বোচ্চ তিনটি আসন ছাড়তে পারে। জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সহসভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতনের জোটের মনোনয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত।

বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তমের কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ২০০৮ সালে ৪৭ আসনে ভোট করে একটি বাদে সব ক’টিতে জামানত হারায়। ভোট পেয়েছিল এক লাখ দুই হাজার ৮৭৯টি। আগামী নির্বাচনে তাদের দাবি ২০ আসন। তবে দলটিকে সর্বোচ্চ তিনটি আসন দিতে পারে বিএনপি। টাঙ্গাইল জেলায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভোটব্যাংক রয়েছে। কাদের সিদ্দিকী, দলের সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী জোটের মনোনয়ন পেতে পারেন।

ঐক্যফ্রন্ট শরিক নাগরিক ঐক্যের চাওয়া ২০ আসন। অনিবন্ধিত এ দলটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও উপদেষ্টা এসএম আকরাম জোটের মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে এ দলে ১৯ নভেম্বরের আগে সুশীল সমাজের কেউ এলে আসন বাড়তে পারে।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক বিকল্পধারা বাংলাদেশ (একাংশ) ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের একটি আসনে ছাড় দিতে পারে বিএনপি। দলের মহাসচিব অ্যাডভোকেট শাহা আহমেদ বাদল বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ