প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন পেছাচ্ছে?

প্রিয় সংবাদ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অবশেষে পেছানো হচ্ছে! এ প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়-ঝাঁপ। এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও চালাচালি (চিঠি প্রস্তুত করতে) হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভেতরেই। ইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তফসিল ঘোষণার পর ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, সব রাজনৈতিক দল চাইলে নির্বাচন পেছানো যেতে পারে। ১১ নভেম্বর একই কথা ইসি সচিব বলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মুজমদারকে।

ইসিকে তফসিল পেছানোর দাবিতে ইতোমধ্যে চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্ট। ১১ নভেম্বর, রবিবার নির্বাচন কমিশনকে এই চিঠি দেয় এ দুই জোট। একই দিন রাজধানীর ধানমন্ডিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তফসিল পেছানোয় আপত্তি নেই তাদের।

এ রকম বাস্তবতায় ১১ নভেম্বর সন্ধ্যায় ইসিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাও সাংবাদিকদের বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল পেছানো হবে কি না, তা জানানো হবে আজ (সোমবার) ।

১১ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা জানান, নির্বাচন কমিশন (ইসি) অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। নির্বাচন পেছানোর ব্যাপারে দলগুলোর দেওয়া কোনো চিঠি তার হাতে পৌঁছায়নি। চিঠিগুলো পৌঁছানোর পর আজ নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংসদ নির্বাচন এক মাস পেছানোর দাবি জানায় জাতীয় ঐক্যফন্ট। রবিবার বিকেলে ইসির কাছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জমা দেয় জোটটি।

ইসিকে চিঠি দেওয়ার পর বিএনপির বিজন কান্তি সরকার বলেন, ‘জাতীয় প্রেসক্লাবে এর আগে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যফ্রন্ট সংসদ নির্বাচন এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছিল। সেই দাবি আমরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে দিতে এসেছি।’

বিকল্প ধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতেও ইসির কাছে এই দাবি জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলকে আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী স্বল্প সময়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ কঠিন হবে। দেশের সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সৎ ও সুশীল প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার প্রয়োজনে আমরা মনে করি, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৬ নভেম্বর করা হোক।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৯ নভেম্বর, মনোনয়ন প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ৫ ডিসেম্বর করা হোক। অনুরূপভাবে ভোট গ্রহণের তারিখ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৯ ডিসেম্বর করার অনুরোধ করছি।’

আর আওয়ামী লীগের ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তফসিল পেছানোসহ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন, এসব নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে। তারা সিদ্ধান্ত নেবে যে তফসিল পেছাবে কি না। কিন্তু পেছানোটা যৌক্তিকভাবে হতে হবে।’

অন্যদিকে রাজধানীর বাইরে রয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। ১১ নভেম্বর রাতে তার ঢাকায় ফেরার কথা। আগামীকাল তিনি কমিশনে আসবেন এবং সভায় যোগ দেবেন।

নির্বাচন পেছানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম প্রিয়.কমকে জানান, এই সিদ্ধান্ত কোনো কমিশনার একা নিতে পারেন না। এটা কমিশনের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে তিনি আগাম মন্তব্য করতে চান না।

রবিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কমিশনে ছিলেন, ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন পেছানোর দাবিতে করা আবেদন পাননি বলে জানান কবিতা খানম। তিনি জানান, নির্বাচন পেছানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ নভেম্বর অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসতে পারেন তারা।

কবিতা খানম প্রিয়.কমকে বলেন, ‘দুজন কমিশনার বাইরে আছেন। একজন আগামীকাল আসবেন, আসার পরে আলোচনা হতে পারে। যদি আবেদন থাকে, কমিশন হয়তো আজ (১২ নভেম্বর) অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করতে পারে। আজকে তো আর সময় নাই।’

তফসিল ঘোষণার পর থেকে ইসি সচিব একাধিকবার বলেছেন, সব দল আবেদন করলে নির্বাচন পেছানো যেতে পারে। এ বিষয়ে কবিতা খানম বলেন, ‘আমরা আগে বসি। অবশ্যই আলোচনা হবে, যদি এ রকম আবেদন আসে।’

গত ৮ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৩ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ