প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জোটে থাকলেও স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে জামায়াত

আরিফুর রহমান তুহিন : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই জোটের বেশিরভাগ শরীক দল ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে অনেক দল নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছে।

এর আগে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের শীর্ষ এক নেতা এই প্রতিবেদককে জানান, জোটের অন্য দল কিভাবে নির্বাচন করবে সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। জামায়াত কারো প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করবে না। এখন আমাদের প্রার্থীরা অনেক বেশি পরিচিত। তাই জনগণ প্রতিক দেখে নয়, দল ও ব্যক্তি দেখে ভোট দিবে।
জামায়াত সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা ১০০ আসনের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছিলো। সেখান থেকে ৬০টি সংসদীয় আসনের তালিকা চূড়ান্ত করেছে। মূলত এই আসনগুলো নিয়ে জোটের প্রধান দল বিএনপির সাথে দর কষাকষি করবে। দু-একদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে তাদের মোট প্রার্থী সংখ্যা। এর মধ্যে কয়েকটি আসনে জোট ছাড় না দিলেও প্রার্থী দিবেন তারা। তবে আলোচনার টেবিলে সব কিছুর সমাধান হবে।

এর আগে শুক্রবার জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এই প্রতিবেদককে জানিয়েছিলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে তারা জোটগতভাবে নির্বাচন করবে। তবে কোনো দলের প্রতিক নিবেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করবেন। এ লক্ষ্যে তারা অনেকদিন আগে থেকেই প্রস্ততি নিয়েছেন। অন্তত ১০০টি আসনে তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ার মতো সক্ষমতা এখনো তাদের আছে।

অন্যদিকে জামায়াত কিভাবে নির্বাচন করবে সে বিষয়ে এখনো অন্ধকারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল-বিএনপি ও এর জোটের শরিকরা। সূত্র জানায়, শনিবারের জোটের মিটিংয়ে জামায়াতের কাছে নির্বাচনের প্রতিকের বিষয়ে জানতে চাইলে নায়েবে আমীল মাওলানা আবদুল হালিম সঠিক কোনো উত্তর না দিয়ে সময় চেয়ে নেন।
এ বিষয়ে জোটের একাধিক নেতা জানান, তারা আশা করছেন, জামায়াতসহ জোটের শরীকরা ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করবেন। কারণ এই প্রতিকটি একন জনপ্রিয়। আর জামায়াতের প্রতিক বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থীতে নির্বাচন করলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে। যদিও অনানুষ্ঠানিকভাবে অনেক আগেই জামায়াত তার জোটকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জামায়াত ও বিএনপির সূত্র জানায়, অতীতে দলটি সর্বোচ্চ ১৮টি আসনে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। যদিও সেটা প্রায় ২৭ বছর আগের কথা। কিন্তু বর্তমানে দলটির নিবন্ধন ও প্রতিক নেই। তাই সবকিছুর সঠিক হিসেব করে ও সমঝোতার ভিত্তিতেই এবারের আসন বণ্টন করবে দলটি। এক্ষেত্রে খুব একটা জটিলতা হবে না বলেও জানান তারা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ