প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আটকের আতঙ্কে ভুগছেন মৌলভীবাজার জেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা

সোহেল রানা, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণার পর থেকেই আটকের আতংকে ভুগছেন জেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। আর এ আটক এড়াতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছেন। গত দুইদিনে শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের সভাপতি মহিউদ্দিন ঝাডু ও মৌলভীবাজার জেলা যুবদলের সহ সভাপতি আব্দুল গফুরকে পুলিশ আটক করে পুলিশ। তাদের আটকের পরপরই এই আতংক আরও বেশি করে দেখা দিয়েছে জেলার নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

তথ্যমতে, চলতি বছরের শুরুতে মৌলভীবাজার জেলার উপজেলা ইউনিয়ন,ওয়ার্ডসহ মাঠ পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হঠাৎ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। দলীয় কার্যালয় ছাড়াও হাট বাজারের চায়ের দোকানেও নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক আলোচনা ও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। জমজমাট আলোচনায় থাকতো নির্বাচনীয় হিসাব নিকাশ। সারাদিন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে আড্ডায় মশগুল থাকতো। কিন্তু তফসীল ঘোষণার পর থেকেই এ চিত্র পাল্টে গেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঠে থাকা তো দুরের কথা বাসায় ও পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই বাসা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। হাট-বাজার চায়ের দোকানে আগের মতো রমরমা আলোচনা হয় না। অনেক নেতাকর্মীকে দেখা যায কথাবার্তায় খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে। অনেকে আটকের আতংকে গোপনের সাথে সাথে বন্ধ রেখেছেন তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি। কিন্তু পুলিশের দাবি শান্তি-শৃঙ্খলা বাজায় রাখতে পুলিশ নিয়মিত তৎপরতা চালালেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে তারা হয়রানি করছেন না। অপরাধী ছাড়া কউকে আটক করছে না পুলিশ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী জানান, আমাদের বিরুদ্ধে কি মামলা আমরা কিছুই জানি না তবুও পুলিশ আমাদের নেতাদের কে টার্গেট করে করে আটক করছে। আমরা রাতে বাসায় থাকতে পারছি না পুলিশের আটকের ভয়ে।

তিনি আরও বলেন, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় কোনো কারণ ছাড়াই অসংখ্য নেতাকর্মীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আনা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন,বর্তমান নেতৃত্ব সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, না হলে শ্রীমঙ্গলে আন্দোলনে নামতে বিএনপিতে কর্মীর অভাব নেই। ডাক দিলে হাজারও নেতাকর্মী রাজপথে নেমে আসবে। কিন্তু কেউ সমস্যায় পড়লে দায়িত্ব নেয়ার কেউ নেই। কার্যালয়ে নেতা আসছে না দেখে কর্মীও আসছে না।

শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির সভাপতি মোছাব্বির আলী মুন্না জানান, কোনো কারণ ছাড়াই আমার ও অন্য নেতাদের বাড়িতে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। ধরে নিয়ে গেছে কয়ক জন নেতাকর্মীকে। তাই তার বাসায় থাকতে পারছে না। ধরলেই নানা রকম মামলা যুক্ত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেল) আশরাফুজ্জামান জানান,আমরা যাদের আটক করেছি তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ এ্যাসল্টের মামলা আছে। আর আমাদের অভিযান গুলো আমরা নিয়মিতই পরিচালনা করি। কাউকে হয়রানি করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। শুধুমাত্র যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা আছে তাদেরই আমরা গ্রেপ্তার করছি। মৌলভীবাজার মডেল থানার অফিসারস্ইনচার্জ সোহেল আহমদ জানান বিভিন্ন মামলার পালাতক আসামীকে আটকের জন্য আমরা অভিযান করে থকি। নির্বচনকে সামনে রেখে কোন নেতা কর্মীকে হয়রানি করার জন্য আমরা কোন অভিযান করি না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ