প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুয়া সংবাদ নাকি ভুয়া সংবাদমাধ্যম

আফসান চৌধুরী: ঢাকা লিট ফেস্টে ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া খবর নিয়ে একটা মজার আলোচনা হয়েছিল। আমি বলেছিলাম ভুয়া খবর বলে কিছু নেই, যা আছে তা হলো- ভুয়া সম্পাদক, ভুয়া সংবাদ কর্মী এবং ভুয়া রাজনীতিক। আসলে যা আমি বলতে চেয়েছি- ভুয়া সংবাদ এক একজনে করতে পারে না, এটা একটা সম্মিলিত কাজ। সবাই এর জন্য সমান দায়ী।

পেশাদার গণমাধ্যমগুলোকে এখন সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে একটা প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমের উপর কারও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সম্ভবত এটাই ভুয়া সংবাদ তৈরির মূল কারণ। এর ফল হচ্ছে- আমরা জানি না কোন প্রকৃত কিংবা ভুয়া নিউজ।

পেশাদার মিডিয়ার কাজ হচ্ছে কোন একটি ঘটনা বা সময়ের যথাযথ তথ্যটি পরিবেশন করা। পৃথিবীকে পরিবর্তন করা সংবাদ মাধ্যমের কাজ নয়। আর যদি কোন প্রতিবেদন বা সংবাদের কারণে কোন পরিবর্তন ঘটেই যায়, সেটা হতে পারে একটি আনন্দজনক বাড়তি প্রাপ্তি, কিন্তু সেটা কোন ক্রমেই মূল লক্ষ্য হবে না।

কিন্তু আমরা বিষয়টিকে এভাবে ভাবি না।

আশির দশকে, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় বাংলাদেশে সাংবাদিকতা বেশ সমৃদ্ধ ও আধুনিক ছিল। শহর এলাকার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থানই যে এর মূল কারণ, সেটি ছিল পরিস্কার। এটাকে আমরা বলতে পারি ইত্তেফাক পরবর্তী চলতি ভাষা প্রচলনের যুগ।

এমনিতেই ১৯৭২ থেকে ১৯৮২ সময়কালকে গণমাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় বিবেচনা করা যায়, আর এরশাদ আমল যেন মিডিয়ার সেই উত্থানকে আরো গতিশীল করেছিল। যায়যায়দিন, আজকের কাগজ, এরকম কিছু প্রকাশনা সংবাদপত্র জগতে নতুন ধারার সূচনা করেছিল।

এরশাদ আমলে তার কতিপয় সমর্থক ছাড়া আর সবাই তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। সেই সময়ের সংবাদমাধ্যমে তা যথাযথভাবে প্রতিফলিতও হয়েছে। তখনকার সেই ভূমিকাকে ‘বিদ্রোহী সাংবাদিকতা’ও বলা যায়। এর প্রকৃতিটা ছিল অনেকটা সেই ১৯৭১ সালের মতো।

অনেকটা একই রকম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল ২০১৩ সালে, যখন শাহবাগ আন্দোলন তার চূড়ান্ত অবস্থানে ছিল।

একথা মানতেই হবে যে, রাজনীতি এবং দেশের মানুষের ওপর তার প্রভাবের কারণে মিডিয়ার ভূমিকা ভিন্ন ভিন্ন হয়। কিন্তু সমস্যা হলো সমাজ যখন রাজনীতি ও তার পক্ষপাত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকে, তখনও আমরা সেখানে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা আশা করি। ফলে আমাদের সেই প্রত্যাশা প্রায়ই পূর্ণ হয় না।

আর এর মধ্যে প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এমন এক মিডিয়ার জন্ম ও বিকাশ ঘটতে থাকে, যেখানে প্রত্যেকেই তার নিজের মিডিয়ার দায়িত্বে চলে আসে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিচের শ্রেণির উত্থান ঘটছে। এই শ্রেণিটিই সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব সক্রিয়।

আর একটি বিষয় পরিস্কার হয়ে যায়। বোঝা যায়- অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে বিশ্ব জুড়েই ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে পেশাদার গণমাধ্যম। সোশ্যাল মিডিয়া এখন ক্রমেই নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে, আর সেখানে সরব হচ্ছে নতুন প্রজন্মের পেশাদার মিডিয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ